পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


نتیجه اعت ۲ تنگ حتی उग्नि छुलिल প্রথম পরিচ্ছেদ fäväiä-Xerxes—fqfjörg Plataea. রাজসিংহের রাজ্য ধ্বংস করিবার জন্য ঔরঙ্গজেবের যাত্রা করিতে যে বিলম্ব হুইল, তাহার কারণ, র্তাহার সেনোদ্যোগ অতি ভয়ঙ্কর ৷ দুর্য্যোধন ও যুধিষ্ঠিরের ন্যায় তিনি ব্রহ্মপুত্রপার হইতে বাহুলীক পৰ্য্যস্ত, কাশ্মীর হইতে কেরল ও পাণ্ড্য পৰ্য্যস্ত যেখানে যত সেন ছিল, সব এই মহাযুদ্ধে আহূত করিলেন । দক্ষিণাপথের মহাসৈন্ত, গোলকুণ্ডা, বিজয়পুর মহারাষ্ট্রের সমরের অবিশ্রান্ত বজ্রাঘাতে, দ্বিতীয় বৃত্ৰা মুরের ন্যায় যাহার পৃষ্ঠ অশনিদুর্ভেদ্য হইয়াছিল— তাহা লইয়া বাদশাহের জ্যেষ্ঠ পুত্র শাহ আলম, দক্ষিণ হইতে উদয়পুর ভাসাইতে আসিলেন । অন্ত পুত্র আজম শাহ,– বাঙ্গালার রাজপ্রতিনিধি, পুৰ্ব্বভারতবর্ষের মহতা চমু লইয়া মেবারের পর্বতমালার দ্বারে উপস্থিত হইলেন । পশ্চিমে মূলতান হইতে পঞ্জাব-কাবুল-কাশ্মীরের অজেয় যোদ্ধবৰ্গ লইয়া অপর পুল্ল আক্ব্বর শাহ আসিয়া, সেনাসাগরের অনন্ত স্রোতে আপনার সেনাসাগর মিশাইলেন । উত্তরে স্বয়ং শাহানশাহ বাদশাহ দিল্লী হইতে অপরাজেয় বাদশাহী সেনা লইয়। উদয়পুরের নাম পৃথিবী হইতে বিলুপ্ত করিবার জন্য মেবারে দর্শন দিলেন । সাগরমধ্যস্থ উন্নতপৰ্ব্বতশিখরসদৃশ সেই অনন্ত মোগল সেনাসাগর-মধ্যে উদয়পুর শোভা পাইতে লাগিল । অনন্তসর্পশ্রেণী:পরিবেষ্টিত গরুড়, যতটুকু শক্ৰভাত হওয়ার সম্ভাবনা, রাজসিংহ এই সাগরসদৃশ মোগলসেনা দেখিয়া ততটুকু ভাত হইয়াছিলেন । ভারতবর্ষে এরূপ সেনোদ্যোগ কুরুক্ষেত্রের পর হইয়াছিল কি না, বলা যায় না । যে সেনা চীন, পারস্ত রা রুষ জয়ের জন্যও আবখ্যক হয় না-ক্ষুদ্র উদয়পুরজয়ের জন্য ঔরঙ্গজেব বাদশাহ তাহ রাজপুতানায় আনিয়া উপস্থিত করিলেন । একবারমাত্র পৃথিবীতে এরূপ ঘটনা হইয়াছিল। যখন পারস্ত পৃথিবীর মধ্যে বড় রাজ্য ছিল, তখন তদধিপতি শের ( Xerxes ) পঞ্চাশ লক্ষ লোক লইয়া গ্রাস নাম ক্ষুদ্র ভূমিখণ্ড জয় করিতে গিয়াছিলেন । থার্ক্সপিলিতে Leonidas, ziț¢fffstrị Themistocles eqqs zsfēr:sfą Pausanias তাহার গৰ্ব্ব খৰ্ব্ব করিয়৷ তাহাকে দূর করিয়৷ দিল -শৃগাল-কুকুরের মত শের পলাইয়া আসিলেন। সেইরূপ ঘটনা পৃথিবীতলে এই দ্বিতীবার মাত্র ঘটিয়াছিল । বহু লক্ষ সেনা লইয়া ভারতপতি— শেরের অপেক্ষাও দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী রাজা— রাজপুতানার একটু ক্ষুদ্র ভূমিখণ্ড জয় করিতে গিয়াছিলেন–রাজসিংহ তাহাকে কি করিলেন, তাহা বলিতেছি । যুদ্ধবিদ্য ইউরোপীয় বিদ্য । আসিয়াখণ্ডে, ভারতবর্ষে ইহার বিকাশ কোন কালে নাই । যে পুরাণেতিহাসবর্ণিত আৰ্য্যবীরগণের এত খ্যাতি শুনি, তাহাদের কৌশল কেবল তীরন্দাজী ও লাঠিয়ালিতে । ইতিহাসলেখক ব্রাহ্মণের যুদ্ধ-বিদ্যা কি, তাহা বুঝিতেন না বলিয়াই হোক, আর যুদ্ধবিদ্যা বস্তুতঃ প্রাচীনকালে ভারতবর্ষে ছিল না বলিয়াই হৌক, রামচন্দ্র-অৰ্জ্জুনাদির সেনাপতিত্বের কোন পরিচয় পাই না । অশোক, চন্দ্রগুপ্ত, বিক্রমাদিত্য, শকাদিত্য, শিলাদিত্য কাহারও সেনাপতিত্বের কোন পরিচয় পাই না । যাহারা ভারতবর্য জয় করিয়াছিলেন, মহম্মদ কাসিম, গজনবী মহম্মল, সাহাবুদ্দীন, আলাউদ্দীন, বাবর, তৈমুর, নাদের, শের-কাহারও সেনাপতিত্বের কোন পরিচয় পাই না । বোধ হয়, মুসলমানলেখকরাও ইহা বুঝিতেন না । আকৃকবরের সময় হইতেই এই সেনাপতিত্বের কতক কতক পরিচয় পাওয়া যায় । আকব্বর, শিবজী, আহম্মদ আবদালী, হৈদর আলি, হরিসিংহ প্রভৃতিতে সেনাপতিত্বের লক্ষণ, রণপণ্ডিত্যের লক্ষণ দেখা যায় । ভারতবর্ষের ইতিহাসে যত রণপাণ্ডিত্যের কথা আছে, রাজসিংহ কাহারও অপেক্ষা নুন নহেন। ইউরোপেও এরূপ রণপণ্ডিত অতি অল্পই জন্মিয়াছিল । অল্প সেনার সাহাষ্যে এরূপ মহৎকাৰ্য্য ওলন্দাজবীর মূকাখ্য উইলিয়মের পর পৃথিবীতে আর কেহ করে নাই । সে অপূৰ্ব্ব সেনাপতিত্বের পরিচয় দিবার এ স্থল নহে । সংক্ষেপে বলিব । চতুর্ভাগে বিভক্ত ঔরঙ্গজেবের মহতী সেন সমাগত হইলে, রণপণ্ডিতের যাহা কৰ্ত্তব্য, রাজসিংহ প্রথমেই তাহা করিলেন । পৰ্ব্বতমালার বাহিরে রাজ্যের যে অংশ সমতল, তাহা ছাড়িয়া দিয়া পৰ্ব্বতোপরি আরোহণ করিয়া সেনা সংস্থাপিত