পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইয়াছে। আমি এখানে জর্মের অনুবর্তী হইয়াছি । এইরূপ অনেক আছে । কথিত আছে, নৃত্যগীত কেহ না করিতে পারে, এমন আদেশ ঔরঙ্গজেব প্রচার করিয়াছিলেন, তাহার নিজের অস্তঃপুরেই সে আদেশের অবমাননা ঘটিয়াছিল, এ উপন্যাসে এইরূপ লিখিয়াছি । আমার স্থির বিশ্বাস, ঐতিহাসিক সভ্য আমার দিকে । ঔরঙ্গজেব নিজে মদ্যপান করিতেন না, কিন্তু ইহার পিতা ও পিতামহ, খুল্লতাত এবং সহোদর প্রভৃতি অতিশয় মদ্যপ ছিলেন । র্তাহার পৌরাঙ্গনা গণও যে মদ্যপায়িনী ছিল, তাহারও ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে । কেহ যদি এ বিষয়ে সন্দেহ করেন, তবে সে সন্দেহ ভঞ্জন করিতে প্রস্তুত আাছি । পরিশেষে বক্তব্য যে, আমি পূৰ্ব্বে কখন ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই । দুর্গেশনন্দিনী বা চন্দ্রশেখর বা সীতারামকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না । এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম । এ পর্য্যস্ত ঐতিহাসিক উপন্যাসপ্রণয়নে কোন লেখকই সম্পূর্ণরূপে কৃতকাৰ্য্য হইতে পারেন নাই । আমি যে পারি নাই, তাহা বলা ৰাহুল্য । ভাষা সম্বন্ধেও একটা কথা বলা প্রয়োজনীয় । । এখন লেখকেরা বা ভাষাসমালোচকের দুই ভাগে বিভক্ত ৷ এক সম্প্রদায়ের মত যে, বাঙ্গালা ব্যাকরণ সৰ্ব্বত্র সংস্কৃতাঞ্জুষায়ী হওয়া উচিত । দ্বিতীয় সম্প্রদায়ের মত—ষ্ঠাহীদের মধ্যে অনেকেই সংস্কৃতে সুপণ্ডিত—ষে, যাহা পূৰ্ব্ব হইতে চলিয়া আসিতেছে, তাহা সংস্কৃত ব্যাকরণবিরুদ্ধ হইলেও চলিতে পারে । আমি নিজে এই দ্বিতীয় সম্প্রদায়ের মতের পক্ষপাতী, . কিন্তু সম্পূর্ণরূপে এবং সকল স্থানে তাহাদেৱ অমুমোদনে প্রস্তুত নহি । আমি যদিও ইতিপূৰ্ব্বে সম্বোধনে “ভগবনু” “প্রভো” “স্বামিনু” “রাজকুমারি” “পিতঃ” প্রভৃতি লিখিয়াছি, এক্ষণে এ সকল বাঙ্গাল ভাষায় অপ্রযোজ্য বলিয়া পরিত্যাগ করিয়াছি । আমি “তথা” এবং “তথায়” উভয় রূপই ব্যবহার করিয়াছি । “সসৈন্তে” এবং “সসৈন্ত” দুই ই লিখিয়াছি, একটু অর্থ প্রভেদে । কিন্তু “গোপিনী” “সশরীরে উপস্থিত . এইরূপ প্রয়োগ পরিত্যাগ করিয়াছি । কারণনির্দেশের এ স্থান নহে । সময়াস্তরে তাহা করিব, ইচ্ছা আছে । শ্ৰীবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়