পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৪৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কান্তেশ্বরী-নাম দান । পুজার ব্যবস্থা। রাধাকৃষ্ণ দাসের গোসানী-মঙ্গল । কবির নিবাস রঙ্গপুর জেলাধীন সরকার ঘোড়াঘাটের অন্তর্গত বাগদুয়ার পরগণায় ঝাড়বিশিন গ্রামে। ১১০৬ বঙ্গাব্দে এই গ্রন্থ রচিত হয়। কবি কুচবিহারে অনেক দিন বাস করিয়াছিলেন ; এবং তথাকার রাজা হরেন্দ্র নারায়ণের আদেশে এই পুস্তক রচনা করেন। এই পুথি ঐহরগোপাল দাস কুণ্ডু মহাশয়ের আবিষ্কৃত। গোসানী বা কান্তেশ্বরীর স্থান আবিষ্কার । রাজা কহে শুন জানি আমার বচন । নারী-সঙ্গে পঞ্চ গব্য আন এহি ক্ষণ ॥ পরম বৈষ্ণব তুমি ব্রাহ্মণ-শরীর। কে তোকে চণ্ডাল কহে ভ্রান্ত সেই স্থির ॥ স্নান করিয়া জল আনহ পুজার। সমৰ্পিল তোক সব পুষ্পের ভাণ্ডার ॥ সেহি ক্ষণে স্নান করি পুষ্প আনি দিল । পুষ্পতোলা দেউড়ি বলি তার নাম থুইল । রাজাগুরু করে পূজা গোসার চরণ। মৈথিল ব্রাহ্মণ হয়। পূজে সাবধান ॥ ছাগল মহিষ বলি কাটিল বিস্তর। তুষ্ট হয়৷ গোসানী রাজাক দিল ৰর ॥ কান্তেশ্বর রাজা হইল তাহার ঈশ্বরী। এই হেতু গোসানীর নাম কান্তেশ্বরী ॥ নানা বাদ্য কোলাহল করে হুরাহুরি। গান নৃত্য করে কত বন্দুক গরগরি। আনন্দে বাদাই করি পূজা সমৰ্পিল। মস্তক নামিয়া রাজা নিৰ্ম্মাল্য লইল ॥ এহি মতে গোসানী হইল স্থাপন। নানাদেশী লোক আসি করে দরশন ॥ কাৰ্ত্তিক বৈশাখ মাসে গোসানীর মেলা হয়। মানসী পূজাএ তার বাঞ্ছা সিদ্ধি হয়।