পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/২০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৯৪

বত্রিশ সিংহাসন

বৈদেহী ঊনত্রিংশ পুত্তলিকা

কহিল, হে ভোজরাজ তুমি কেন ভ্রান্ত হইয়াছ, তোমাকে সখীগণ এত বুঝাইল তথাপি তোমার জ্ঞানোদয় হইল না। তুমি অগ্রে আমার বাক্য শ্রবণ কর, পশ্চাৎ সিংহাসনারোহণ করিও। রাজা বলিলেন, শুনিতেছি বল। পুত্তলিকা কহিতে লাগিল।

 এক দিবস রাজা বিক্রমাদিত্য নিদ্রাবস্থায় স্বপ্ন দেখিলেন, চতুর্দিকে প্রফুল্ল কুসুমোদ্যানবেষ্টিত, নানাবিধ সুস্বাদু সুগন্ধীয় সুখাদ্য দ্রব্যে পরিপূর্ণ, নানা রত্নে খচিত এক অপূর্ব্ব মনোহর স্বর্ণ অট্টালিকাতে, কতিপয় অতি রূপবতী যুবতী রমণী রমণীয় বেশ ভূষায় ভূষিত হইয়া সুকোমল সুমধুর স্বরে গান করিতেছে। এক ভাগ্যবান, তপস্বী বসিয়া তাহা শ্রবণ করিতেছেন। রাজা এই স্বপ্ন দর্শন করিয়া মনে মনে কহিলেন এই অট্টালিকাবাসী তপস্বী সাতিশয় সুখী, বোধ হইতেছে। ইহা চিন্তা করিতে করিতে রাজার নিদ্রাভঙ্গ হইল।

 প্রত্যুষ সময়ে, রাজা মান পূজা করিয়া বেতালকে আহ্বান পূর্বক আজ্ঞা করিলেন, আমি স্বপ্নে যে অট্টালিকা দেখিয়াছি তথায় গমন করিব। এই আজ্ঞায় বেতাল তাহাকে স্কন্ধে করিয়া সেই অট্টালিকাতে লইয়া উপস্থিত করিল। রাজা তাহাকে তথা হইতে বিদায় দিয়া অট্টালিকার উদ্যানে প্রবেশ করিলেন। প্রবেশমাত্রেই