পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

চতুর্থ পুত্তলিকা।

৪১

 পুত্তলিকা কহিল হে ভােজরাজ দেখ, রাজা বিক্রমাদিত্য কেমন পরােপকারী ছিলেন। যে প্রাণকে সতত রক্ষা করা কত্ত সে প্রাণের কিছু মাত্র আশঙ্কা করিয়া তিনি কেবল পরের উপকার জন্য আপনাকে দৈত্যের মুখে দিয়াছিলেন। আর দেখ তাহার কেমন জিতেন্দ্রিয়তা, যে নারীর প্রেমে তাহার চিত্ত ক্ষণ কালের নিমিত্ত বিচলিত হইয়াছিল তাহাকে পাইয়াও অনায়াসে ত্যাগ করিলেন। হে ভােজরাজ যদি তােমার এমত গুণ থাকে তবে সিংহাসনে উপবেশন কর, নতুবা এ দুরাশা পরিত্যাগ করাই সৎপরামর্শ।

 ইহা শুনিয়া ভােজরাজ সে দিবস সিংহাসনে আরােহণ করিলেন না। পর দিবস পুনর্ব্বার সিংহাসনের নিকটে আসিলে,

চন্দ্রকলা চতুর্থ পুত্তলিকা

কহিতে লাগিল হে রাজন, তুমি কেন এত ত্বরিতাঃ- করণ হইয়াছ, কিঞ্চিৎ কাল ধৈর্য্যাবলম্বন পূর্ব্বক শ্রবণ কর, আমি তােমাকে রাজা বিক্রমাদিত্যের বদান্যতার এক বিবরণ বলি।

 এক দিবস রাজা বিক্রমাদিত্য সভায় বসিয়া আছেন এমত সময়ে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ আসিয়া বলিল মহা- রাজ আমি যেরূপ উপদেশ দিতেছি তদনুসারে যদি কেহ নূতন আলয় নির্মাণ করিয়া তাহাতে বাস করে তাহা হইলে অতিশয় সুখী ও যশস্বী হইতে পারে।