পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলা ব্যাকরণে বিশেষ বিশেষ্য* জামরা পূর্বে এক প্রবন্ধে দেখাইয়াছি, বাংলায় নামসংজ্ঞা ছাড়া বিশ্যেপদবাচক শৰ মাত্রই সহজ অবস্থায় সামান্ত বিশেষ্য। অর্থাৎ তাহা জাতিবাচক । যেমন শুধু 'কাগজ বলিলে বিশেষভাবে একটি বা অনেকগুলি কাগজ বোঝায় না, তাহার দ্বারা সমস্ত কাগজকেই বোঝায়। এমন স্থলে যদি কোনো বিশেষ কাগজকে আমরা নির্দেশ করিতে চাই তবে সেজন্য বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা আবশ্যক হয় । ইংরেজি ব্যাকরণে এইরূপ নির্দেশক চিহ্নকে Article বলে। বাংলাতেও এই শ্রেণীর সংকেত আছে। সেই সংকেতের দ্বারা সামান্ত বিশেষ্যপদ একবচন ও বহুবচন রূপ ধারণ করিয়া বিশেষ বিশেষ্যে পরিণত হয়। এ কথা মনে রাখা কর্তব্য, বিশেষ্যপদ, একবচন বা বহুবচনৰূপ গ্রহণ করিলেই, সামান্তত পরিহার করে। একটি ঘোড়া বা তিনটি ঘোড়া বলিলেই ঘোড়া শব্দের জাতিবাচক অর্থ সংকীর্ণ হইয়া আসে— তখন বিশেষ এক বা একাধিক ঘোড়া বোঝায়— সুতরাং তখন তাহাকে সামান্ত বিশেষ না বলিয়া বিশেষ বিশেষ্য বলাই উচিত। এই কথা চিন্তা করিলেই পাঠক বুঝিতে পারিবেন আমাদের সামান্ত বিশেষ্য aqt Rezafè Common name 4-5 Rtg | ১ বাংলা ব্যাকরণে তির্যক্রূপ নামক প্রবন্ধে, বাংলায় বিশেষ বিশেষ স্থলে কর্তৃকারকে একারযোগে যে রূপ হয় তাহাকে তির্যক্রূপ নাম দিয়াছিলাম। তাহাতে কোনো পাঠক আপত্তি প্রকাশ করিয়াছেন । তিনি বলেন ইহাকে বলা উচিত কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি। নাম লইয়া তর্ক নিষ্ফল। নাহয় নাই বলিলাম ‘তির্যক্রাপ'– নাহয় আর-কোনো নাম দেওয়া গেল। আমার বক্তব্য এই ছিল যে, কোনো কোনো স্থলে বাংলা বিশেষ্যপদ তাহার সহজরূপ পরিত্যাগ করে। তাহার এই রূপের বিকারকেই অন্তান্ত গৌড়ীয় ভাষার সহিত তুলনা করিয়া তির্যক্রূপ নাম দিয়াছিলাম। ঘোড়ে, কুত্তে প্রভৃতি হিন্দি শব্দই হিন্দি তির্যক্রুপের দৃষ্টান্ত ; ঘোড়ওয়া কাহারওয়া প্রভৃতি শব্দ নহে– অন্তত তুলনামূলক ব্যাকরণবিদগণ শেষোক্তগুলিকে তির্যক্রূপের দৃষ্টান্ত বলিয়া ব্যবহার করেন নাই। দ্বিতীয় কথা এই— বাংলা কর্তৃকারকের একার-সংযুক্ত রূপকে যদি সংস্কৃত কোনো বিভক্তির নাম দিতেই হয় তবে আমার মতে তাহা সপ্তমী নহে তৃতীয় । বাংলা ‘বাঘে খাইল বাক্যটি সংস্কৃত ‘ব্যান্ত্রেণ থাদিত; বাক্য হইতে উৎপন্ন এমন অনুমান করা যাইতেও পারে। যাহাই হউক এ-সকল অনুমানের কথা । আমার সে প্রবন্ধে আসল কথাটা ব্যাকরণের নাম নহে, ব্যাকরণের নিয়ম ।