পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বীমসের বাংলা ব্যাকরণ ዓ¢ বিশেষণ শব্দ অকারস্ত উচ্চারণ হয়, যেমন ছোট খাট ; এতদ্বভিন্ন যাবৎ অকারান্ত শব্দ হলন্ত উচ্চারিত হয়, যেমন ঘটু, পটু, রাম, রামদাস, উত্তম, স্বন্দর, ইত্যাদি ।” রামমোহন রায়ের উদ্ধৃত দৃষ্টান্ত র্তাহার নিয়মকে অপ্রমাণ করিতেছে তাহা তিনি লক্ষ্য করেন নাই । উত্তম ও সুন্দর শব্দ বিশেষণ শব্দ। যদি কেহ বলেন উহা সংস্কৃত শব্দ ; তথাপি খণটি বাংলা শব্যেও তাহার ব্যতিক্রম মিলিবে ; যথা নরম, গরম । একথা স্বীকার করিতে হইবে, খাটি বাংলায় দুই অক্ষরের অধিকাংশ বিশেষণ-শবদ হলন্ত নহে । প্রথমেই মনে হয় বিশেষণ শব্দ বিশেষরূপে অকারান্ত উচ্চারিত হইবে এ নিয়মের কোনো সার্থকতা নাই ; অতএব ছোটো বড়ো ভালে৷ প্রভৃতি বিশেষণ শব্দ যে, সাধারণ বাংলা শব্দের ন্যায় হসন্ত হয় নাই, তাহার কারণটা ঐ শব্দগুলির মূল সংস্কৃত শব্দে পাওয়া যাইবে। ভালো শব্দ ভদ্র শব্দজ, বড়ো বৃদ্ধ হইতে উৎপন্ন, ছোটো ক্ষুদ্র শব্দের অপভ্রংশ। মূল শব্দগুলির শেষবর্ণ যুক্ত,-যুক্তবর্ণের অপভ্রংশে হসন্ত বর্ণ না হওয়ারই সম্ভাবনা । কিন্তু এ নিয়ম খাটে না । “নৃত্য”র অপভ্রংশ নাচ, পঙ্ক-পাক ; অঙ্ক —অণক ; রঙ্গ – রাং, ভট্ট—ভাট, হস্ত—হাত, পঞ্চ–পাচ ইত্যাদি । অতএব নিশ্চয়ই বিশেষণের কিছু বিশেষত্ব আছে। সে বিশেষত্ব আরও চোখে পড়ে, যখন দেখা যায় বাংলার অধিকাংশ দুই অক্ষরের বিশেষণ, যাহা সংস্কৃত মূল শব্দ অনুসারে অকারাস্ত হওয়া উচিত ছিল তাহা আকারাস্ত হইয়াছে।