পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У о о শব্দতত্ত্ব ব্যাকরণের বাহিরে বাস করে কিন্তু কাজের বেলা ইহাদিগকে নইলে চলে না । ংলা ভাষায় এই ইঙ্গিত বাক্যের ব্যবহার যত বেশি এমন আর কোনো ভাষায় অাছে বলিয়া আমরা জানি ন । যে সকল শব্দ ধ্বনিব্যঞ্জক, কোনো অর্থসূচক ধাতু হইতে যাহাদের উৎপত্তি নহে তাহাদিগকে ধ্বন্যাত্মক নাম দেওয়া গেছে। যেমন ধা, সা, চটু, খট, ইত্যাদি । এইরূপ ধ্বনির অনুকরণমূলক শব্দ অন্য ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়—কিন্তু ৰাংলার বিশেষত্ব এই যে এগুলি সকল সময় বাস্তবধবনির অনুকরণ নহে অনেক সময়ে ধ্বনির কল্পনা মাত্র । মাথা দব দব, করিতেছে, টনটন করিতেছে, কনকন করিতেছে প্রভৃতি শব্দে বেদনা বোধকে কাল্পনিক ধ্বনির ভাষায় তর্জমা করিয়া প্রকাশ করা হইতেছে। “মাঠ ধৃ ধু করিতেছে, রৌদ্র ঝ ঝণ করিতেছে, শূন্ত ঘর গম্গম করিতেছে, ভয়ে গা ছমছম করিতেছে,” এগুলিকে অন্য ভাষায় বলিতে গেলে বিস্তারিত করিয়া বলিতে হয়— এবং বিস্তারিত করিয়া বলিলেও ইহার অনিৰ্ব্বচনীয়তাটুকু হৃদয়ের মধ্যে তেমন অনুভবগম হয় না—এরূপ স্থলে এই প্রকার অব্যক্ত অক্ষ ট ভাষাই ভাবব্যক্ত করিবার পক্ষে বেশি উপযোগী। একটা জিনিষকে লাল বলিলে তাহার বস্তুগণ সম্বন্ধে কেবলমাত্র একটা খবর দেওয়া হয়। কিন্তু “লাল টুক্‌টুক্‌ করিতেছে” বলিলে সেই লাল রং আমাদের অনুভূতির মধ্যে কেমন করিয়া উঠিয়াছে তাহাই একটা অর্থহীন কাল্পনিক ধ্বনির সাহায্যে বুঝাইবার চেষ্টা করা যায় । ইহা ইঙ্গিত—ইহা বোবার ভাষা।