পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাষার ইঙ্গিত > * > বাংলাভাষায় এইরূপ অনিৰ্ব্বচনীয়তাকে ব্যক্ত করিবার চেষ্টান্থ এই প্রকারের অব্যক্ত ধ্বনিমূলকশন্স প্রচুররূপে ব্যবহার করা হয়। ভালো করিয়া ছবি আঁকিতে গেলে শুধু গোটাকতক মোট রং লইয়া বসিলে চলে না, নানা রকমের মিশ্র রং স্বল্প রঙের দরকার হয় । বর্ণনার ভাষাতেও সেইরূপ বৈচিত্র্যের প্রয়োজন । শরীরের গতি সম্বন্ধে ইংরাজী ভাষায় কত কথা আছে ভাবিয়া Cwfoot-Walk, run, hobble, waggle, wade, creep, crawl ইত্যাদি—বাংলা লিখিত ভাষায় কেৰল দ্রুতগতি ও মন্দগতি দ্বারা এই সমস্ত অবস্থা ব্যক্ত করা যায় না । কিন্তু কথিত ভাষা লিখিত ভাষার মতো বাবু নহে, তাহাকে যেমন করিয়া হৌক প্রতিদিনের নানান কাজ চালাইতে হয়—যতক্ষণ বোপদেব পাণিনি অমরকোষ ও শব্দকল্পদ্রুম আসিয়া তাহাকে পাশ ফিরাষ্টয়া না দেন ততক্ষণ কাত হইয়া পড়িয়া থাকিলে তাহার চলে না—তাই সে নিজের বর্ণনার ভাষা নিজে বানাইয়া লইয়াছে। তাই তাহাকে কখনো সা করিয়া, কখনো গট্টগঢ় করিয়া, কখনো খুটুস খুটুস্ করিয়া, কখনো নড়বড় করিতে করিতে, কখনো সুড়স্থড্র করিয়া, কখনো থপথপ এবং কখনো থপাস থপাস করিয়া চলিতে হয়। FsTffS SfT laugh, smile, grin, simper, chuckle FfRRi নানাবিধ আনন্দ কৌতুক ও বিদ্রুপ প্রকাশ করে—বাংলা ভাষা খলখল করিয়া, খিলখিল করিয়া, হোহো করিয়া, হিহি করিয়া, ফিক্ ফিক্‌ করিয়া, ফিক্‌ করিয় এবং মুচ কিয়া হাসে । মুচ কে হাসির জন্য বাংলা অমরকোষের কাছে ঋণী নহে। মচ কান