পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Y e\9 শব্দতত্ত্ব শেষোক্ত দৃষ্টাস্ত হইতে দেখা যায়, পূৰ্ব্বে আকার ও পরে ইকার থাকিলে মাঝখানের ওকারটি উচ্চারণের সুবিধার জন্য উকাররূপ ধরে । শুদ্ধমাত্র “কোটি” উচ্চারণ সহজ, কিন্তু “কোটাকোটি” দ্রুত উচ্চারণের পক্ষে ব্যাঘাতজনক । চাপাচোপি ডাকাডোকি ঘাটাঘেণটি উচ্চারণের চেষ্টা করিলেই ইহা বুঝা যাইবে —অথচ চুপি, ডুকি, ঘুটি উচ্চারণ কঠিন নহে । তাহা হইলে মোটের উপরে দেখা যাইতেছে যে, জোড়া কথাগুলির প্রথমাংশের আদ্যক্ষরে যেখানে ই, উ, ব, ও অাছে সেখানে দ্বিতীয়াংশে আকার স্বর যুক্ত হয়—যেমন, ঠিকঠাক, মিটমাট, ফিটফাট, ভিড়ভাড়, ঢিলেঢালা, ঢিপঢাপ ইত্যাদি । কুচোকাচা, গুড়োগাড়া, গুতোগাত, কুটোকাটা, ফুটোফাট, ভূজংভাজাং, টুকরোটাকুর, হুকুমহাকাম, শুকনোশাকুন। — গোলগাল, যোগযাগ, সোরসার, রোখরাখ খোচখাচ গোছগাছ, মোটমাট, খোপথাপ, খোলাখালা, জোগাড়জাগাড় । কিন্তু যেখানে প্রথমাংশের আদ্যক্ষরে আকার যুক্ত আছে সেখানে দ্বিতীয়াংশে ওকার জুড়িতে হয়। ইহার দৃষ্টান্ত পূৰ্ব্বেই দেওয়া হইয়াছে—“জোগাড় শব্দের বেলায় হইল জোগাড়জাগাড় ডাগর শব্দের বেলায় হইল ডাগরডোগর। একদিকে দেখে, টুকরোটাকরা, হুকুমহাকাম,—অন্যদিকে হাপুস্হুপুস্, নাদুসম্ভকুস। ইহাতে স্পষ্ট দেখা যাইতেছে আকারে ওকারে একটা বোঝাপাড়া আছে । ফিরিঙ্গি যেমন ইংরাজের চালে চলে, আমাদের সঙ্কর জাতীয়