পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-> S ૨ শব্দ তত্ত্ব এই সরকারি টয়ের পরিবর্তে এক এক সময় ফ একৃটিনি করিতে আসে, কিন্তু তাহাতে একটা অবজ্ঞার ভাব আনে—যদি বলি লুচিটুচি, তবে লুচির সঙ্গে কচুরি নিম্কি প্রভৃতি অনেক উপাদেয় পদার্থ বুঝাইবার আটক নাই—কিন্তু লুচিফুচি বলিলে লুচির সঙ্গে লোভনীয়তার সম্পর্ক মাত্র থাকে না । আর দুটি অক্ষর আছে, স এবং ম । বিশেষভাবে কেবল কয়েকটি শৰেই ইহাদের প্রয়োগ হয়। স-এর দৃষ্টান্ত —জো-সো, জড়োসড়ো, মোটাসোটা, রকমসকম, ব্যামোস্তামো, ব্যারামস্তারাম, বোকাসোকা, নরমসরম, বুড়োহুড়ো, অ্যাটর্সাট, গুটিয়েন্থটিয়ে, বুঝেমঝে । ম-এর দৃষ্টান্ত —চটেমটে, রেগেমেগে, হিচ কেমিচ কে,সিটুকেমিট্‌কে, চট্‌কেমট্‌কে, চম্কেমম্‌কে, চেচিয়েমেচিয়ে, অ্যাংকেমাংকে, জড়িয়েমড়িয়ে,অণচড়েমাচড়ে, শুকিয়েমুকিয়ে, কুঁচকেমুচ কে, তেড়ে মেড়ে, এলোমেলো, খিটিমিটি, হুড়মুড়, ঝাকড়ামাকড়, কটোমটো। দেখা যাইতেছে ম-এর দৃষ্টান্তগুলি বেশ সাধু শাস্তভাবের নহে— কিছু রুক্ষ রকমের । বোধ হয় চিন্তা করিয়া দেখিলে দেখা যাইবে সচরাচর কথাতেও আমরা ম অক্ষরটাকে টয়ের পরিবর্ভে ব্যবহার করি, অন্ততঃ ব্যবহার করিলে কানে লাগে না—কিন্তু সে সকল জায়গায় ম আপনার মেজাজটুকু প্রকাশ করে—আমরা “বিষ-মিষ” বলিতে পারি কিন্তু “সন্দেশমন্দেশ” যদি বলি তবে সন্দেশের গৌরবটুকু একেবারে নষ্ট হইয়া যাইবে । “দুটাে ঘুষোমুষে লাগিয়ে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে” এ কথা বলা চলে, কিন্তু “বন্ধুকে যত্নমত্ব”