পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভাষার ইঙ্গিত S$వ -অকিঞ্চিৎকর বলিয়া ঠেকিবে । আমার কৈফিয়ং এই যে বিজ্ঞানের কাছে কিছুই অবজ্ঞেয় মাই এবং প্রেমের কাছেও তদ্রুপ । আমার মতো সাহিত্যওয়ালা বিপদে পড়িয়া বিজ্ঞানের দোহাই মানিলে লোকে হাসিবে কিন্তু প্রেমের নিবেদন যদি জানাই, বলি মাতৃভাষার কিছুই আমার কাছে তুচ্ছ নহে তবে আশা করি কেহ নাসা -কুঞ্চিত করিবেন না। মাতাকে সংস্কৃত ভাষার সমাসসন্ধি তদ্ধিতপ্রত্যয়ে দেবীবেশে ঝলমল করিতে দেখিলে গৰ্ব্ব বোধ হয় সন্দেহ নাই, কিন্তু ঘরের মধ্যে কাজকর্মের সংসারে আটপৌরে কাপড়ে র্তাহাকে গেহিণী বেশে দেখিতে যদি লজ্জা বোধ করি, তবে সেই লজ্জার জন্ম লজ্জিত হওয়া উচিত । বৈয়াকরণের যে সকল গুণ ও বিদ্যা থাকা উচিত তাহা আমার নাই,—শিশুকাল হইতে স্বভাবতই অামি ব্যাকরণভীরু-কিন্তু বাংলা ভাষাকে তাহার সকল প্রকার মূৰ্ত্তিতেই আমি হৃদয়ের সহিত শ্রদ্ধা করি, এইজন্য তাহার সহিত তন্ন তন্ন করিয়া পরিচয় সাধনে আমি ক্লাস্তি বোধ করি না । এই চেষ্টার ফলস্বরূপে ভাষার ভাণ্ডার হইতে যাহা কিছু আহরণ করিয়া থাকি মাঝে মাঝে তাহার এট। ওট। সকলকে দেখাইবার জন্ত আনিয়া উপস্থিত করি, ইহাতে ব্যাকরণকে চির ঋণে বদ্ধ করিতেছি বলিয়া স্পৰ্দ্ধা করিব না, ভুলচুক অসম্পূর্ণতাও যথেষ্ট থাকিবে—কিন্তু আমার এই চেষ্টায় কাহারও মনে যদি এরূপ ধারণা হয় যে, প্রাকৃত বাংলা ভাষার নিজের একটি স্বতন্ত্র আকার প্রকার অাছে এবং এই আকৃতি প্রকৃতির তত্ত্ব নির্ণয় করিয়া শ্রদ্ধার সহিত অধ্যবসায়ের সহিত বাংলা ভাষার