পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ురి " শব্দতত্ত্ব বিশিষ্ট করা হয় । যখন বলা হয়, “রাস্তা কোন দিকে” তখন সাধারণভাবে পথ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়—যখন বলি, “রাস্তাটা কোন দিকে”—তখন বিশেষ একটা রাস্ত কোন দিকে সেই সম্বন্ধেই প্রশ্ন করা হয়। ইংরেজিতে “the” শব্দের প্রয়োগ যত ব্যাপক বাংলায় “টি” তেমন নহে । আমাদের ভাষায় এই প্রয়োগ সম্বন্ধে মিতব্যয়িতা আছে । সেই জন্যে যখন সাধারণ ভাবে আমরা খবর দিতে চাই, মধু বাহিরে নাই, তখন আমরা শুধু বলি, মধু ঘরে আছে—ঘর শব্দের সঙ্গে কোনো নির্দেশক চিহ্ন যোজনা করি না । কারণ ঘরটাকেই বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করিবার কোনোই প্রয়োজন নাই । ইংরেজিতে এস্থলেও *the room” বলা হইয়া থাকে। কিন্তু যখন কোনো একটি বিশেষ ঘরে মধু আছে এই সংবাদটি দিবার প্রয়োজন ঘটে তখন আমরা বলি, ঘরটাতে মধু আছে। এইরূপ, ষে বাক্যে একাধিক বিশেষ্যপদ আছে তাহাদের মধ্যে বক্ত যেটিকে বিশেষভাবে নির্দেশ করিতে চান সেইটির সঙ্গেই নির্দেশক যোজনা করেন। যেমন, গোরুটা মাঠে চরছে, বা মাঠটাতে গোরু চরছে । জাজিমটা ঘরে পাতা, বা ঘরটাতে জাজিম পাতা । “আমার মন খারাপ হয়ে গেছে” বা “আমার মনটা খারাপ হয়ে গেছে”—দুইই আমরা বলি। প্রথম বাক্যে, মন খারাপ হওয়া ব্যাপারটাই বলা হইতেছে—দ্বিতীয় বাক্যে, আমার মনই যে খারাপ হইয়া গেছে তাহার উপরেই ঝোক । “টি” সঙ্কেতটি ছোটো আয়তনের জিনিষ ও অাদরের জিনিষ