পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


・〉●8 শব্দতত্ত্ব স্বায়, "বেহারের মাটিটা উৰ্ব্বর” বা “ভীমের দোকানের সন্দেশটা ভালো” তখন প্রশংসা সূচনা সত্ত্বেও “টা” নির্দেশক ব্যবহার হয় তাহার কারণ এই যে, এই বিশেষ্য পদগুলিতে যে সকল বস্তু বুঝাইতেছে তাহা পরিমাণে অল্প নহে । যখন আমরা কর্তৃবাচক বিশেষ্যকে সাধারণভাবে উল্লেখ করিয়া পরিচয়বাচক বিশেষ্যকে বিশেষভাবে নির্দেশ করি, তখন শেষোক্ত বিশেষ্যের সহিত নির্দেশক যোগ হয় । যেমন, "হরি মাকুষটা ভালো,” “বাঘ জন্তুটা ভীষণ ।” ■ সাধারণতঃ গুণবাচক বিশেষ্যে নির্দেশক যোগ হয় না— বিশেষত শুদ্ধমাত্র অস্তিত্ব জ্ঞাপনকালে তো হয়ই না । যেমন, আমরা বলি, “রামের সাহস আছে ।”—কিন্তু “রামের সাহসটা কম নয়”, “উমার লজ্জাট বেশি” বলিয়া উমার বিশেষ লজ্জা ও রামের বিশেষ সাহসের উল্লেখ কালে টা প্রয়োগ করি । ইংরেজিতে “this” “my” প্রভৃতি সৰ্ব্বনাম বিশেষণ পদ থাকিলে বিশেষ্যের পূর্বে আর্টিকল বসে না কিন্তু বাংলায় তাহার বিপরীত। এরূপ স্থলে বিশেষ করিয়াই নির্দেশক বসে। যেমন, “এই বইটা,” আমার কলমটি ।” বিশেষণ পদের সঙ্গে “টা” “টি” যুক্ত হয় না। যদি যুক্ত হয় তবে তাহা বিশেষ্য হইয়া যায়। যেমন, “অনেকটা নষ্ট হয়েছে”, “অৰ্দ্ধেকটা রাখো”, “একটা দাও”,"আমারটা লও”,“তোমরা কেবল মন্দটাই দেখো” ইত্যাদি । নির্দেশক-চিহ্ন-যুক্ত বিশেষ্যপদে কারকের চিহ্নগুলি নির্দেশকের