পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলা নির্দেশক >8S সরু জিনিষ লম্বায় ছোটে হইলে তাহার সম্বন্ধে ব্যবহার হয় না। দড়িগাছা, কিন্তু গোফগাছ নয়। শলাগাছটা কিন্তু ছুচগাছটা নয়। চুলগাছি যখন বলা হয় তখন লম্বা চুলই বুঝায়। যেখানে গাছি ও গাছা বসে সেখানে সৰ্ব্বত্রই বিকল্পে টি ও ট বসিতে পারে—এবং কোনো কোনো স্থলে খানি ও খান বসিতে পারে । টুকু ৷ টুকু শব্দ সংস্কৃত তমুক শব্দ হইতে উৎপন্ন। মৈথিলি সাহিত্যে তমুক শক দেখিয়াছি । “তনিক” এখনও হিন্দিতে ব্যবহৃত হয় । ইহার সগোত্র “টুক্রা” শব্দ বাংলায় চলিত আছে। টুকু স্বল্পতাবাচক। সজীবপদার্থ সম্বন্ধে ইহার ব্যবহার নাই। ভেড়াটুকু গাধাটুকু হয় না। পরিহাসচ্ছলে মানুষটুকু বলা চলে। ক্ষুদ্রায়তন হইলেও এমন পদার্থ সম্বন্ধে ব্যবহৃত হয় না যাহার বিশেষ গঠন আছে। যেমন এয়ারিংটুকু বলা যায় না, সোনাটুকু বলা যায়। পদ্মটুকু বলা যায় না, চুনটুকু বলা যায়। পাগড়িটুকু বলা যায় না, রেশমটুকু বলা যায়। অর্থাৎ যাহাকে টুকরা করিলে তাহার বিশেষত্ব যায় না তাহার সম্বন্ধেই “টুকু” ব্যবহার করা চলে। কাগজকে টুকরা করিলেও তাহা কাগজ, কাপড়কে টুকরা করিলেও তাহা কাপড়, এক পুকুর জলও জল, এক ফোটা জলও