পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S88 I শব্দতত্ত্ব কয়েকটি টেবিল বঁকা, সামান্তত টেবিল বঁাকা নহে । কাক শাদা বলা চলে না, কিন্তু কাকগুলো শাদা বলা চলে, কারণ, বিশেষ কয়েকটা কাক শাদা হওয়া অসম্ভব নহে । এই “গুলা” শব্দযোগে বহুবচনরূপ নিম্পন্ন করাই বাংলার সাধারণ নিয়ম। বিশেষস্থলে বিকল্পে শব্দের সহিত “রা” ও “এরা” যোগ হয় । যেমন, মামুষেরা, কেরাণীরা ইত্যাদি । এই “রা” ও “এরা জীববাচক বিশেষ্যপদ ছাড়া অন্যত্র ব্যবহৃত “श्ध्न न । হলন্ত শব্দের সঙ্গে “এরা” এবং অন্ত স্বরাস্ত শব্দের সঙ্গে “রা” মুক্ত হয়। যেমন বালকেরা, বধূরা। বালকগুলি, বঞ্চুগুলি ইত্যাদিও श्ध्र । কথিতভাষায় এই “এরা” চিহ্নের “এং প্রায়ই লুপ্ত হইয়া থাকে —আমরা বলি বালকরা, ছাত্ররা, ইত্যাদি । ব্যক্তিবাচক বিশেষ্য পদেরও বহুবচনৰূপ হইয়া থাকে। যথা রামেরা—অর্থাৎ রাম ও আনুষঙ্গিক অন্য সকলে । এরূপস্থলে কদাপি গুলা গুলির প্রয়োগ হয় না। কারণ রামগুলি বলিলে প্রত্যেকটিরই রাম হওয়া আবশ্যক হয় । ইহা হইতে বুঝা যাইতেছে এই “এরা” সম্বন্ধকারকরূপ হইতে উৎপন্ন। অর্থাৎ রামের সহিত সম্বন্ধযুক্ত যাহারা তাহারাই “রামেরা”। যেমন তিৰ্য্যকরূপে “জন” শব্দকে জোর দিয়া হইয়াছে “জনা”, সেইরূপ “রামের” শব্দকে জোর দিয়া হইয়াছে স্নামেরা ।