পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনুবাদ-চর্চা S&@ আমরা বলি “যাত্রীর মন্দিরে আশ্ৰয় লইল, তাহারা অনেকেই উপবাসী ছিল”। অতএব আমাদের আলোচ্য ইংরেজি প্যারাগ্রাফে যেখানে “which” আছে সেখানে “যাহারা” না হইয়া “তাহারা” হইবে । “যে” সৰ্ব্বনাম সম্বন্ধে যে নিয়মের আলোচনা করিলাম তাহার ব্যতিক্রম আছে এখানে তাহার উল্লেখ থাকা আবশ্যক । “এমন” সৰ্ব্বনাম-শব্দানুগত বাক্যাংশ বিকল্পে “যে” সৰ্ব্বনামের পূৰ্ব্বে বসে । যথা :–“এমন গরীব আছে যাহার ঘরে হাড়ি চড়ে না।” ইহাকে উণ্টাইয়া বলা চলে যাহার ঘরে হাড়ি চড়ে না এমন গরীবও আছে ৷ ‘এমন জলচর জীব আছে যাহারা স্তন্যপায়ী এবং ভাসিয়া উঠিয়া যাহাদিগকে শ্বাস গ্রহণ করিতে হয় । এই “এমন” শব্দ না থাকিলে বাক্যের শেষভাগে “যাহাদিগকে” শব্দ ব্যবহার করা যায় না। যেমন, “তিমি জাতীয় স্তন্যপায়ী জলে বাস করে, ভাসিয়া উঠিয়া যাহাদিগকে শ্বাস গ্রহণ করিতে হয়”—ইহা ইংরেজি রীতি ; বাংলা রীতিতে “যাহাদিগকে” না বলিয়া “তাহাদিগকে বলিতে হইবে । ইংরেজিতে Subject শব্দের অনেকগুলি অর্থ আছে তাহার মধ্যে একটি অর্থ, আলোচ্য প্রসঙ্গ । ইহাকেই আমরা বিষয় Afi | Subject of conversation, subject of discussion ইত্যাদির বাংলা,—আলাপের বিষয়, তর্কের বিষয়। কিন্তু Subject to cold “সন্দির বিষয়” নহে। এরূপস্থলে সংস্কৃত ভাষায় আম্পদ, পাত্র, ভাজন, অধীন, বশীভূত প্রভৃতি প্রয়োগ