পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


फिझ बिजाप्ले ) ఆవ একদা আমার মনে তর্ক উঠেছিল যে, চিহ্নগুলো ভাষার বাইরের জিনিষ, সেগুলোকে অগত্যার বাইরে ব্যবহার করলে ভাষার অভ্যাস খারাপ হয়ে যায়। যেমন, লাঠিতে ভর ক’রে চললে পায়ের পরে নির্ভর কমে। প্রাচীন পুথিতে দাড়ি ছাড়া আর কোনে উপসর্গ ছিল না, ভাষা নিজেরই বাক্যগত ভঙ্গীদ্বারাই নিজের সমস্ত প্রয়োজনসিদ্ধি করত । এখন তার এত বেশি নোকর চাকর কেন। ইংরেজের ছেলে যখন দেশে থাকে তখন একটিমাত্র দাসীতেই তার সব কাজ চলে যায়, ভারতবর্ষে এলেই তার চাপরাসী হরকরা বেহার বাটুলার চোপদার জমাদার মালী মেথর ইত্যাদি কত কী । আমাদের লিখিত ভাষাকেও এইরকম হাকিমী সাহেবিয়ানায় পেয়ে বসেছে। “কে হে তুমি” বাক্যটাই নিজের প্রশ্নত্ব হাকিয়ে চলেছে তবে কেন ওর পিছনে আবার একটা কুঁজ-ওয়ালা সহিস । সব চেয়ে আমার খারাপ লাগে বিস্ময়ের চিহ্ন। কেননা বিস্ময় হচ্চে একটা হৃদয় ভাব— লেখকের ভাষায় যদি সেটা স্বতই প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তাহোলে একটা চিহ্ন ভাড়া করে এনে দৈন্ত ঢাকবে না। ও যেন আত্মীয়ের মৃত্যুতে পেশাদার শোকওয়ালির বুক-চাপড়ানি ।