পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিহ্ন বিভ্রাট ›ዓ » অনুচর। কুকুরবিহীন সঙ্কুচিত ল্যাজের মতো। যখন ছিল না তখন পাঠকের আন্দাজ ছিল পাকা, বাক্যপথে কোথায় কোথায় বঁাক তা সহজেই বুঝে নিত। এখন কুঁড়েমির তাগিদে বুঝেও বোঝে না । সংস্কৃত নাটকে দেখেছ রাজার আগে আগে প্রতিহারী চলে—চিরাভ্যস্ত অন্তঃপুরের পথেও ক্ষণে ক্ষণে হেঁকে ওঠে, “এই দিকে” “এই দিকে” । কম সেমিকোলনগুলো অনেকটা তাই । একদিন চিহ্নপ্রয়োগে মিতব্যয়ের বুদ্ধি যখন আমাকে পেয়ে বসেছিল তখনই আমার কাব্যের পুনসংস্করণকালে বিস্ময়সঙ্কেত ও প্রশ্নসঙ্কেত লোপ করতে বসেছিলুম। প্রৌঢ় যতিচিহ্ন সেমিকোলনকে জবাব দিতে কুষ্ঠিত হই নি । কিশোর কম-কে ক্ষমা করেছিলুম, কারণ, নেহাৎ খিড়কির দরজায় দাড়ির জমাদারী মানানসই হয় না। লেখায় দুই জাভের যতিই যথেষ্ট, একটা বড়ো একটা ছোটো | সূক্ষ্ম বিচার ক’রে আরো একটা যদি আনে৷ তাহোলে অতি সূক্ষ্ম বিচার ক’রে ভাগ আরো অনেক বাড়বে না কেন । চিহ্নের উপর বেশি নির্ভর যদি না করি তবে ভাষা সম্বন্ধে অনেকটা সতর্ক হোতে হয় । মনে করে কথাটা এই —“তুমি যে বাবুয়ানা স্বরু করেছ।” এখানে বাবুয়ানার উপর ঠেস দিলে কথাট। প্রশ্নস্থচক হয়—ওটা একটা ভাঙা প্রশ্ন— পূরিয়ে দিলে দাড়ায় এই, “তুমি যে বাবুয়ানা স্বরু করেছ তার মানেট কী বলে দেখি ” “যে” অব্যয় পদের পরে ঠেস দিলে