পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালচার ও সংস্কৃতি RS ল’লে কি আমরাও বাংলা ভাষায় ফিরিঙ্গিয়ানা করব ? ইংরেজিতে স্বশিক্ষিত মানুষকে বলে কালটিভেটেড —আমরা কি সেইরকম উচুদরের মানুষকে চাষ করা মানুষ বলে সন্মান জানাব, অথব! বলব কেদারনাথ । —( পত্রাংশ—৮ ডিসেম্বর, ১৯৩২ ) গত জ্যৈষ্ঠের ( ১৩৪২ ) ‘প্রবাসীতে একস্থানে ইংরেজি “কালচার” শব্দের প্রতিশব্দরূপে "রুষ্টি” শব্দের ব্যবহার দেখে মনে গঢ়ক লাগল। বাংলা খবরের কাগজে একদিন হঠাৎ-ব্রণের মতে। ঐ শব্দটা চোখে পড়ল, তারপরে দেখলুম ওটা বেড়েই চলেছে । সংক্রামকতা পবরের কাগজের বস্তি ছাড়িয়ে উপর মহলেও ছড়িয়ে পড়েছে দেখে ভয় হয় । “প্রবাসী” পত্রে ইংরেজি অভিধানের এই “অবদানটি” সংস্কৃত ভাষার মুখোষ প’রে প্রবেশ করেছে, এটা নিঃসন্দেহ অনবধানতাবশত। প্রসঙ্গক্রমে ব’লে রাখি বৰ্ত্তমানে বাংলা সাহিত্যে “অবদান” শব্দটির যে-প্রয়োগ দেখতে দেখতে ব্যাপ্ত গেলে সংস্কৃত শব্দকোষে তা খুজে পাইনি । “কৃষ্টি” কথাটা হঠাৎ তীক্ষু কাটার মতে বাংলা ভাষার পায়ে বিধেছে । চিকিৎসা করা যদি সম্ভব না হয় অস্তত বেদনা জানাতে হবে। ঐ শব্দটা ইংরেজি শব্দের পায়ের মাপে বানানো । এতটা প্রণতি ভালো লাগে না । {} ভাষায় কখনো কখনো দৈবক্রমে একই শব্দের দ্বারা দুই বিভিন্ন জাতীয় অর্থজ্ঞাপনের দৃষ্টান্ত দেখা যায়, ইংরেজিতে