পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sbrbr শব্দতত্ত্ব যা-ই হোক-সহানুভূতি কথাটা যে বানানো কথা এবং ওটা এখনো মানান-সই হয়নি, তা বেশ বোঝ যায়—যখন ও শব্দটাকে বিশেষণ করবার চেষ্টা করি । ‘সিম্প্যাথেটিকৃ’-এর কী তর্জম। হোতে পারে, সহায়ুভৌতিক, বা ‘সহানুভূতিশীল’, বা ‘সহানুভূতিমান ? ভাষায় যেন খাপ খায় না—সেই জন্যেই আজ পর্য্যস্ত বাঙালি লেখক এর প্রয়োজনটাকেই এড়িয়ে গেছে । দরদের বেলা ‘দরদী’ ব্যবহার করি, কিন্তু সহানুভূতির বেলায় লজ্জায় চুপ ক’রে যাই। অথচ সংস্কৃত ভাষায় এমন একটি শব্দ আছে, ঘেটা একেবারেই তথার্থক । সে হচ্চে ‘অন্তকম্পা’। ধ্বনিবিজ্ঞানে ধ্বনি ও বাদ্যযন্ত্রের তারের মধ্যে সিম্প্যাথি-র কথা শোনা যায়— ঘে সুরে বিশেষ কোনো তার বাধ, সেই স্বর শদিত হোলে সেই তারটা অমুকম্পিত ও অনুধ্বনিত হয় । এই তো "অমুকম্পন’। অন্যের বেদনায় যখন আমার চিত্ত ব্যথিত হয়, তখন সেই তে৷ ঠিক ‘অনুকম্পা’ , ‘অনুকম্পায়ী কথাটা সংস্কৃতে আছে। ‘অন্তকম্পাপ্রবণ’ শব্দটাও মন্দ শোনায় না। ‘অতুকম্পালু’ বোধ করি ভালোই চলে। মুস্কিল এই যে, দখলের দলিলটাই ভাষায়: স্বত্বের দলিল হয়ে ওঠে। কেবলমাত্র এই কারণেই ‘কান, সোনা, চুন, পান’ শব্দগুলোতে মূৰ্দ্ধন্য ণ-য়ের অনধিকার নিরোধ করা এত দুঃসাধ্য হয়েছে। ছাপাখানার অক্ষর-যোজকের ংশোধন মানে না। তাদের প্রশ্ন করা যেতে পারত যে, কানের এক “সোনায়” যদি মূৰ্দ্ধন্য ণ লাগল, তবে অন্য “শোনায়” কেন দস্ত্য ন লাগে । ‘শ্রবণ” শব্দের র-ফলা লোপ হবার সঙ্গে সঙ্গে