পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ه /عn ইহার প্রতিবাদী। তিনি ঘটকালি করিয়া কৌলিন্তের নিৰ্ম্মম শাসন ভেদ করিবেন এবং শুভ বিবাহ ঘটাইয়া দিবেন—কারণ কথা আছে শুভস্ত শীঘ্ৰং । যারা প্রতিবাদী তারা এই বলিয়া তর্ক করেন যে, বাংলায় চলিত ভাষা নানা জিলায় নানা ছাচের, তবে কি বিদ্রোহীর দল একটা অরাজকতা ঘটাইবার চেষ্টায় আছে! ইহার উত্তর এই যে, যে-যেমন খুসি আপন প্রাদেশিক ভাষায় পুথি লিখিবে, চলিত ভাষায় লিখিবার এমন অর্থ নয়। প্রথমত খুসিরও একটা কারণ থাকা চাই । কলিকাতার উপর রাগ করিয়া বীরভূমের লোক বীরভূমের প্রাদেশিক ভাষায় আপন বই লিপিবে এমন খুসিটাই তার স্বভাবত হইবে না। কোনো একজন পাগলের তা হইতেও পারে কিন্তু পনেরো আনার তা হইবে না । দিকে দিকে বৃষ্টির বর্ষণ হয় কিন্তু জমির ঢাল অনুসারে একটা বিশেষ জায়গায় তার জলাশয় তৈরি হইয়া উঠে । ভাষারও সেই দশা । স্বাভাবিক কারণেই কলিকাত অঞ্চলে একটা ভাষা জমিয়া উঠিয়াছে তাহ বাংলার সকল দেশের ভাষা । কলিকাতার একটা স্বকীয় অপভাষা আছে যাহাতে “গেমু” ”কবৃন্থ” প্রভৃতি ক্রিয়াপদ ব্যবহার হয় এবং “ভেয়ের বে” ( ভাইয়ের বিয়ে ) “চেলের দাম” ( চালের দাম ) প্রভৃতি অপভ্রংশ প্রচলিত আছে, এ সে ভাষাও নয়। যদি বলে—তবে এই ভাষাকে কে স্বনির্দিষ্ট করিয়া দিবে ? তবে তার উত্তর এই যে, যে-সকল লেখক এই ভাষা ব্যবহার করিবেন তাদের যদি প্রতিভা থাকে তবে তারা তাদের সহজ