পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S/ সমস্ত বাংলা দেশের একমাত্র রাজধানী থাকাতে সেইখানে সমস্ত বাংল। দেশের একটি সাধারণ ভাষা আপনি জাগিয়া উঠিতেছিল। তাহা ফরমাসে গড়। কৃত্রিম ভাষা নহে তাহা জীবনের সংঘাতে প্রাণলাভ করিয়া সেই প্রাণের নিয়মেই বাড়িতেছে । আমাদের পাকযন্ত্রে নানা খাদ্য আসিয়া রক্ত তৈরি হয়, তাহাকে বিশেষ করিয়া পাকযন্ত্রের রক্ত বলিয়া নিন্দ করা চলে না, তাহ সমস্ত দেহের রক্ত । রাজধানী জিনিসটা স্বভাবতই দেশের পাকযন্ত্র । এইখানে নানা ভাব, নানা বাণী এবং নানা শক্তির পরিপাক ঘটিতে থাকে এবং এই উপায়ে সমস্ত দেশ প্রাণ পায় ও ঐক্য পায়। রাগ করিয়া এবং ঈর্ষা করিয়া যদি বলি প্রত্যেক প্রদেশ আপন স্বতন্ত্র পাকযন্ত্র বহন করুক তবে আমাদের হাত পা বুক পিঠ বিধাতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়৷ বলিতে পারে আমাদের নিজের নিজের একটা করিয়। পাকযন্ত্র চাই । কিন্তু যতই রাগ করি আর তর্ক করি, সত্যের কাছে হার মানিতেই হয় এবং সেইজন্যই সংস্কৃত বাংলা আপনার খোলস ভাঙিয়া যে-ছাদে ক্রমশ প্রাকৃত বাংলার রূপ ধরিয়া উঠি তেছে সে-ছাদ ঢাকা বা বীরভূমের নয় । তার কারণ নানা প্রদেশের বাঙালী শিখিতে, আয় করিতে, ব্যয় করিতে, আমোদ করিতে, কাজ করিতে অনেক কাল হইতে কলিকাতায় আসিয়া জমা হইতেছে । তাহাজের সকলের সম্মিলনে যে এক ভাষ। গড়িয়া উঠিল তাহ ধীরে ধীরে -বাংলার সমস্ত প্রদেশে ছড়াইয়া পড়িতেছে । এই উপায়ে, অন্ত দেশে যেমন ঘটিয়াছে, তেমনি এখানেও একটি বিশেষ ভাষা ఖీ గ్గ