পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


So/ * বাংলা দেশের সমস্ত ভদ্রঘরের ভাষা হইয়া উঠিতেছে । ইহা কল্যাণের লক্ষণ। অবশ্ব স্বভাবতই এই ভাষার ভূমিকা দক্ষিণ বাংলার ভাষায় । এইটুকু নম্রভাবে স্বীকার করিয়া না লওয়া সদ্বিবেচনার কাজ নহে । ঢাকাতেই যদি সমস্ত বাংলার রাজধানী হইত তবে এতদিনে নিশ্চয়ই ঢাকার লোক-ভাষার উপর আমাদের সাধারণ ভাষার পত্তন হইত এবং তা লইয়া দক্ষিণ পশ্চিম বাংল। যদি মুখ বাক৷ করিত তবে সে বক্রতা আপনিই সিধা হইয়। যাইত, মানভঞ্জনের জন্য অধিক সাধাসাধি করিতে হইত না । এই যে বাংলা দেশের এক-ভাষা, আজকের দিনে যাহ। অবাস্তব নহে, অথচ যাহাকে সাহিত্যে ব্যবহার করি ন| বলিয়া যাহার পরিচয় আমাদের কাছে সৰ্ব্বাঙ্গ সম্পূর্ণ হয় নাই, যখনি শক্তিশালী সাহিত্যিকেরা এই ভাষায় ভাব প্রকাশ করিবেন তখনি ইহা পরিব্যক্ত হইয়া উঠিবে, সেটাতে কেবল ভাষার উন্নতি নয়, দেশের কল্যাণ । এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটা যে তর্ক আছে সেটা একটু ভাবিয়া দেখিতে হইবে । আমরা বাংলা-সাহিত্যে আজ যে-ভাষা ব্যবহার করিতেছি তার একটা বাধন পাকা হইয়া গেছে । অধিকাংশ লোকের পক্ষেই এই বাধনের প্রয়োজন আছে । নহিলে সাহিত্যে সংযম থাকে না । আবার শক্তি যাদের অল্প ংযম তাদেরই বেশি । অতএব আমাদের যে চলতি ভাষাকে সাহিত্যে নূতন করিয়া চালাইবার কথা উঠিয়াছে, তাহার আদব