পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


रे শব্দতত্ত্ব এই তো গেল প্রথম নম্বর । তার পরে আবার এক অক্ষরের পাচ রকম উচ্চারণ। অনেক কষ্টে যখন বি, এ = বে, সি, এ = কে মুখস্থ হইয়াছে—তখন শুনা গেল বি, এ, বি – ব্যাব, সি, এ, বি – ক্যাব । তাও যখন মুখস্থ হইল তখন শুনি, বি, এ, আর = বার, সি, এ, আর = কার । তাও যদি বা আয়ত্ত হইল তখন শুনি, বি, এ, ডবল এল = বল ; সি, এ, ডবল এল – কল । এই অকূল বানান পাথারের মধ্যে গুরু মহাশয় যে আমাদের কর্ণ ধরিয়া চালনা করেন র্তাহার কম্পাসই বা কোথায়, তাহার ধ্রুবতারাই বা কোথায় ! আবার এক এক জায়গায় অক্ষর আছে অথচ তাহার উচ্চারণ নাই—একটা কেন এমন পাচটা অক্ষর সারি সারি বেকার দাড়াইয়া আছে—বাঙালীর ছেলের মাথার পীড়া ও অমরোগ জন্মাইয়৷ দেওয়া ছাড়া তাহাদের আর কোনো সাধু উদ্দেশুই দেখা যায় না। মাষ্টার মশায় psalm শব্দের বানান জিজ্ঞাসা করিলে কিরূপ হৃৎকম্প উপস্থিত হইত তাহ আজও কি ভুলিতে পারিয়াছি । পেয়ারার মধ্যে যেমন অনেকগুলো বীজ কেবলমাত্র খাদকের পেটকামড়ানীর প্রতি লক্ষ্য করিয়া বিরাজ করে—তেমনি ইংরাজি শব্দের উদর পরিপূর্ণ করিয়া অনেকগুলি অক্ষর কেবল রোগের বীজ স্বরূপে থাকে মাত্র । বাংলায় এ উপদ্রব নাই। কেবল একটি মাত্র শব্দের মধ্যে একটা দুষ্ট অক্ষর নিঃশব্দ পদসঞ্চারে প্রবেশ করিয়াছে, তীক্ষ সঙ্গীন ঘাড়ে করিয়া শিশুদিগকে ভয় দেখাইতেছে, সেটা আর কেহ নয়—“গবর্ণমেণ্ট” শব্দের মূদ্ধণ্য ণ !