পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৪৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাংলা উচ্চারণ సా “ক’ন,” “হয়েন” শব্দের অপভ্রংশ “হ’ন” ইত্যাদি । যাহা হউকৃ ষষ্ঠ নিয়মটা তেমন পাকা নহে । ৭ম । ৪র্থ নিয়মে বলিয়াছি অপভ্রংশে ইকারের লোপ হইলেও পূৰ্ব্ববৰ্ত্তী “অ’ “ও” হইয়াছে ; অপভ্রংশে উকারের লোপ হইলেও পূর্ববৰ্ত্তী অ উচ্চারণস্থলে ও হইবে। যথা—“হউন” “হ’ন” । “রছন” = “র’ন।” “কহুন”—“ক’ন ৷” ইত্যাদি । ৮ম । রফলা বিশিষ্ট বর্ণের সহিত আ লিপ্ত থাকিলে তাহা ও হইয়া যায়। যথl,—শ্রবণ, ভ্রম, ভ্রমণ, ব্রজ, গ্রহ, ত্রস্ত, প্রমাণ, প্রতাপ । ইত্যাদি । কিন্তু য় পরে থাকিলে “অ’য়ের বিকার হয় না । যথ। ক্রয়, ত্রয়, শ্রয় । দুয়েকটি ছাড়া যতগুলি নিয়ম উপরে দেওয়া হইয়াছে তাহাতে বুঝাইতেছে ই কিম্ব। উয়ের পূৰ্ব্বে "অ’য়ের উচ্চারণ ও হইয়া যায়। এমন কি ইকার উকার অপভ্রংশে লোপ হইলেও এ নিয়ম থাটে । এমন কি, যফলা ও ঋফলায় ইকারের সংস্রব আছে বলিয়া তাহার পূৰ্ব্বেও অ“য়ের” বিকার হয় । ইকারের পক্ষে যেমন য ফল, উকারের পক্ষে তেমনি ব ফলা—উয়ে অয়ে মিলিয়া ব ফলা হয় ; অতএব আমাদের নিয়মানুসারে ব ফলার পূর্বেও অকারের বিকার হওয়া উচিত । কিন্তু ব ফলার উদাহরণ অধিক সংগ্ৰহ করিতে পারি নাই বলিয়া একথা জোর করিয়া বলিতে পারিতেছি না । কিন্তু যে দুই তিনটি মনে আসিতেছে তাহাতে আমাদের কথা খাটে। যথা—অন্বেষণ, ধন্বন্তরী মম্বন্তর । এইখানে গুটিকতক ব্যতিক্রমের কথা বলা আবশুক । ই, উ,