পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধবন্তাত্মক শব্দ ৩১ ‘ফুরফুর", ধ্বনির দ্বারা ব্যক্ত করা। পাতলা ফিনফিন করছে, বলিলে এ কথা কেহ বোঝে না যে, পাতলা বস্তু বাস্তবিক কোনে শব্দ করিতেছে, অথচ তদ্বারা তনু পদার্থের তমুত্ব সুস্পষ্ট হইয়া উঠে। ছিপছিপে কথাটাও ঐরূপ—সরু বেতই বাতাসে আহত হইয়া ছিপছিপ শব্দ করে, মোটা লাঠি করে না, এই জন্য ছিপছিপে লোক বস্তুত কোনো শব্দ না করিলেও ছিপছিপে শব্দ দ্বারা তাহার দেহের বিরলতা সহজেই মনে আনে। লকলকে, লিকলিকে লিংলিঙে শব্দও এই শ্রেণীর । কিন্তু ধ্বনির সহিত যে সকল ভাবের দূর সম্বন্ধও নাই, তাহাও বাংলায় ধ্বনির দ্বারা ব্যক্ত হয় । যেমন কনকনে শীত ;—কনকন ধ্বনির সহিত শীতের কোনো সম্বন্ধ খুজিয়া পাওয়া যায় না। শীতে শরীরে যে বেদনা বোধ হয়, আমাদের কল্পনার কোনো অদ্ভূত বিশেষত্ববশতঃ আমরা তাঙ্গকে কনকন ধ্বনির সহিত তুলনা করি—অর্থাৎ আমরা মনে করি, সেই বেদনা যদি শ্রুতিগম্য হইত, তবে তাহা কনকন শব্দরূপে প্রকাশ পাইত । আমরা শরীরের প্রায় সৰ্ব্বপ্রকার বেদনাকেই বিশেষ বিশেষ ধ্বনির ভাষায় ব্যক্ত করি—যথা কটকট, কনকন, করকর ( চোখের বালি), কুটকুট, গা-ঘ্যান ঘ্যান (বা গা ঘিন ঘিন),গা-চচ্চড়, চিনচিন, গা- ছমছম, ঝিনঝিন, দবদব, ধকধক, বুক-দুদড়, ম্যাজ ম্যাজ, স্থড্রমুড়, সড়সড়, রীরী । ইংরাজীতে এইরূপ শারীরিক বেদন Toño, throbbing, gnawing, boring, crawling cutting, tearing, bursting zoofs footato অভিহিত