পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৬৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২ শবদতত্ত্ব করা হয়। আমরাও ছিড়ে পড়া, ফেটে যাওয়া কামড়ানো প্রভৃতি বিশেষণ আবখ্যকমতো ব্যবহার করি, কিন্তু উল্লিখিত ধবন্যাত্মক শব্দে যাহা যে ভাবে ব্যক্ত হয়, তাহা আর কিছুতে হইবার জো নাই । ঐ সকল ধ্বনির সহিত ঐ সকল বেদনার সম্বন্ধ যে কাল্পনিক, এক্ষণে আমাদের পক্ষে তাহা মনে করাই কঠিন । বাস্তবিক অনুভূতি সম্বন্ধে কিরূপ বিসদৃশ উপমা আমাদের মনে উদিত হয়, “গা মাটি মাটি করা” বাক্যটি তাহার উদাহরণস্থল। মাটির সহিত শারীরিক অবস্থাবিশেষের যে কী তুলনা হইতে পারে তাহা বোঝা যায় না, অথচ “গা মাটিমাটি করা” কথাটা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট ভাববহ । সৰ্ব্বপ্রকার শূন্যতা স্তব্ধতা, এমন কি; নিঃশবাতাকেও আমর ধ্বনির দ্বারা ব্যক্ত করি। আমাদের ভাষায় শূন্ত ঘর খ খ করে, মধ্যাহ্ন রেীত্রের স্তব্ধত ঝ ঝণ করে, শূন্ত মাঠ ধৃ ধূ করে, বৃহৎ জলাশয় থৈ থৈ করে,পোড়োবাড়ি ই৷ ই করে,শূন্ত হৃদয় হু হু করে, কোথাও কেহ না থাকিলে ভে ভো করিতে থাকে—এই সকল নিঃশব্দতার ধ্বনি অন্য ভাষীদের নিকট কিরূপ জানি না, আমাদের কাছে নিরতিশয় স্পষ্ট ভাববহ ;—ইংরাজি ভাষার desolate প্রভৃতি অর্থাত্মক শব্দ, অন্তত আমাদের নিকট এত স্থম্পষ্ট নহে। বর্ণকে ধ্বনিরূপে বর্ণনা করা, সেও আশ্চৰ্য্য। টকটকে, টুকটুকে, ডগডগে, দগদগে, রগরগে লাল ; ফুটফুটে, ফ্যাটফেটে, ফ্যাকফেকে, ধবধবে শাদা ; মিসমিসে, কুচকুচে কালো । টকটক শব্দ কাঠের ন্যায় কঠিন পদার্থের শব্দ। যে লাল অত্যন্ত কড়া লাল, সে যখন চক্ষুতে আঘাত করে, তখন সেই