পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধবন্তাত্মক শবদ \මA অর্থাৎ স্থিতিবাচক এবং গতিবাচক শব্দগুলিকে স্বতন্ত্র করা যাইতে পারে। তাহা হইলে দেখা যাইবে স্থিতিবাচক শব্দ অতি অল্প । কেবল শূন্যতাপ্রকাশক শব্দগুলিকে ঐ দলে ধরা যাইতে পারে। যথা, মাঠ ধুধু করিতেছে, অথবা রৌদ্র বা ঝা করিতেছে। এই ধুধু এবং বাবা। ভাবের মধ্যে একটি স্বল্প স্পন্দনের ভাব আছে বলিয়াই তাহারা এই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দলে মিশিতে পারিয়াছে । আমাদের এই শব্দগুলি সচলধৰ্ম্মী । চকুচকে জিনিষ স্থির থাকিতে পারে, কিন্তু তাহার জ্যোতি চঞ্চল । যাহা পরিষ্কার ভকৃতকৃ করে, তাহার আভাও স্থির নহে । বর্ণ জলজলে হউক বা ম্যাড়মেড়ে হউক, তাহার আভা আছে। বাংলা ভাষায় স্থিরত্ব বর্ণনার উপাদান কী, তাহা আলোচনা করিলেই আমার কথা স্পষ্ট হইবে । গঢ় হইয়া বসা, গুম্ হইয় থাকা, ভে হইয়া থাকা, বুদ হইয়। যাওয়া । গঢ়, গুম এবং ভে ধ্বন্তাত্মক বটে, কিন্তু আর পাওয়া যায় কি না সন্দেহ । ইহার মধ্যেও গুম্ভাবে একটি আবদ্ধ আবেগ আছে ;–যেন গতি স্তব্ধ হইয়া আছে, এবং ভো ভাবের মধ্যেও একটি আবেগের বিহবলতা প্রকাশ পায় । ইহার একান্ত স্থিতিবোধক নহে, স্থিতির মধ্যে গতির আভাসবোধক । যাহাই হউক এরূপ উদাহরণ আরো যদি পাওয়া যায়, তবে তাহ অত্যন্ত্র । স্থিতিবাচক শব্দ অধিকাংশই অর্থাত্মক । স্থিতি বুঝিতে মনের সত্বরতা আবশ্যক হয় না। স্থিতির গুরুত্ব, বিস্তার এবং স্থায়িত্ব, সময় লইয়। ওজন করিয়া পরিমাপ করিয়া বুঝিলে ক্ষতি নাই ।