পাতা:বাঙ্গলার পরিচিত পাখী.djvu/১২০

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


বাঁশপাতি

 এই পাখীটীও আমাদের পল্লীপ্রান্তের সুষমা বর্দ্ধন করে। কলিকাতার উপকণ্ঠে যাদবপুরে বাসকালে লক্ষ্য করিয়াছি যে প্রায় খঞ্জনের সঙ্গে সঙ্গে ইহারা আসিয়া উপস্থিত হইত। ইহারা আংশিক যাযাবর কিংবা সম্পূর্ণ যাযাবর তাহা সঠিক আমি বলিতে পারি না। তবে আমাদের গ্রামে ইহাকে শীতের প্রারম্ভেই আসিয়া ভরা গ্রীষ্মের সময় অন্তর্হিত হইতে দেখিতাম। বাংলা, বিহার ও যুক্ত প্রদেশে ইহাকে আমি গ্রীষ্মকালে দেখি নাই।

 খাস কলিকাতা সহরে গড়ের মাঠে ইহাকে দেখিতে পাওয়া যায়। কার্জন পার্কের পশ্চিম প্রান্তের গাছগুলি হইতে বাহির হইয়া দ্রুত সঞ্চরমান কীটপতঙ্গের পশ্চাদ্ধাবমান হইতে ইহাদিগকে বহু বৎসর লক্ষ্য করিয়াছি। ইহাদের উড়িবার ক্ষিপ্রতা ও উড়ন্ত অবস্থায় কীটপতঙ্গ ধরিবার রীতি ফিঙ্গের মত।

 ইহাদের নাম হইতেই ইহাদের দেহবর্ণ অনুমেয়। উহা কচি বাঁশের পাতার মত সবুজ। তবে পৃষ্ঠে, মাথায় ও ডানায় অগ্রভাগে লাল্‌চে পীত আভা থাকায় যখন ইহা নানা ভঙ্গীতে উড়ন্ত কীটপতঙ্গের পশ্চাতে ধাবমান হয় তখন সূর্য্যালোক ইহার দেহে নিপতিত হইয়া বিচিত্র বর্ণের আভা সৃষ্টি করে। গণ্ডদেশ উজ্জ্বল নীল। চঞ্চুটী ঘন কৃষ্ণ। চঞ্চুর মূলদেশ হইতে একটী সুপরিসর ঘনকৃষ্ণ রেখা চঞ্চুর নীচ দিয়া ঘাড়ের দিকে চলিয়া আসিয়াছে। গলা ও বক্ষের সংযোগস্থলে একটী সঙ্কীর্ণ কালো রেখা কণ্ঠহারের মত দেখা যায়। চক্ষু উজ্জ্বল লাল। সুতরাং বিবিধ বর্ণের সমাবেশে ইহাকে দেখিতে মনোহর। ইহাদের পুচ্ছের গঠন এই মনোহারিত্ব বৃদ্ধি করিয়াছে। পুচ্ছের মাঝখান হইতে