পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৯২ তোমার কি ধৰ্ম্ম, তোমার কি কৰ্ম্ম, লাঙ্গালীর গান । নবীন বিরহিণি বিদেশিনি! কোথায় যাস্ গে। বল, “মৰ্ম্ম জানতে পাঠালেন ব্রজের রাজ রাই। কুঞ্জবনে ফিরে ফিরে, কি জন্তে চা’স ফিরে ফিরে বল উদ্ধব! তোমার মনে আবার কি আছে ? একবার এসে আক্রুব মুনি, কলে কৃষ্ণকাঙালিনী, ব্রজের ধন নীলকান্ত মণি, হ’রে লক্ষে গিয়েছে। উদ্ধবের আগমন দেখে বৃন্দাবনেতে ; বুন্দে ধায়, গিয়ে খেদ জনায়, পথমধ্যেতে । কও হে উদ্ধব, কও কিমর্থে আগমন ?— আস সুলক্ষণ, কি হে বৈলক্ষণ, কোন ছলে গোকুলে আসি করলে পদার্পণ ! দেখে মথর-নিবাসী ভযু হয়, একজন এসে ছদ্মবেশে, প্রেম ভেঙ্গে, বাদ সেধেছে। সাধু হও যদ্যপি, তথাপি সন্ধ হতেছে। যেমন সেই অঙ্কুর দেখতে মুধাৰ্ম্মিক— তোমায়ু ততোধিক, দেখছি শতধিক, সুধারা বৈষ্ণবের ধারা, সজ্ঞানী সাত্ত্বিক। কিন্তু কুগ্ৰামনিবাসী যারা হয় ; ধৰ্ম্মরহিত, তাদের চরিত, ধৰ্ম্মশাস্ত্রে লিখেছে। ফেরে। উদ্ধব! শৃষ্ঠ ব্রজে প্রবেশ করে না। কৃষ্ণ বিনে গোষ্ঠ শুষ্ঠ, কানন শৃঙ্গ, নগর শুষ্ঠ, কমলিনীর কুঞ্জ শুষ্ঠ, সকল শূন্ত দেখ না। কৃষ্ণের কথায়, আজ হেথায় আগমন তোমার ; গোপিকার বিরহ-বিকার, করতে প্রতিকার। কৃষ্ণ প্রেমানল, মনামলময় ;— সে কি নিৰ্ব্বাণ হয় ! দেখ গোকুলময়, হতেছে খাণ্ডবের মতন অগ্নিবৃষ্টিময় ! দিলে প্রবোধ বারি, কি হইবে তায় ! দাবানলে যে বন জ্বলে, জল দিলে তা নিবে না। করি কৃতাঞ্জলি বলি হে, কথা ঠেলে না। দেখলে ত উদ্ধব, ব্রজের দুঃখ সব ;— আমরা গোপী সব, জীবন থাকৃতে শব; সবার দশ সমান দশা, করেছেন কেশব । বুচবে সকল জ্বালা, এলে সেই কাল ; নৈলে বেঁচে কি সুখ আছে ম'লেই যোচে ঘন্ত্রণ নয়নের নীরে নীরে, ভাসে নয়ন শতদল ৷ চঞ্চল চপলার মত, নিতান্ত চঞ্চল। হরি ভয়ে করা যেমন, পলাইয়ে যায় ;– সখি ! তোর দেখি তেমূনি ধারা, ধরিতে ন পারে ধরা, এমন ধারা মেয়ের ধারা, কভু ভাল নয়। , এলি এমুনি ছলে বৃন্দাবনে, ভ্ৰমণ করিস বনে বনে,কি আছে তোর মনেমনে । মনের কথা আমায় বল | দুর্জয় মানেতে হয়ে অপমান, কালচাদ, সেই মানের করতে শেষ। ব্রজরাজ, ত্য’জে রাখাল সাজ, যুবরাজ, ধরলেন আজ যুবতীর বেশ। কপালে সিন্দূর বিদ, সহান্ত বদন – তাতে সজল নয়নোপরে, কজ্জল উজ্জ্বল করে, জলধরে শোভা ধরে, বিজুলি যেমন । হেরে মনুমোহিনী মনের সন্ধে, কৌশলে জিজ্ঞাসে বৃন্দে, বিধুমুখি, বৃন্দাবন কি করতে এলি রসাতল ? ॥ কিবা গজেন্দ্রগতি যুবতী গো ! গলায় গজমতি দুলছে ; কবরী আ-মরি কি শোভা পায় ! কনক চাপা তায় ঝুলছে। অঙ্গে সোণ, কাণে শোন, সেই সোণ গোকুলের ধন; প্যারী তায়, দুর্জয় মানের দায়, মানকুণ্ডে দেছে বিসর্জন । সেই হতে নিকুঞ্জেতে, কেহ মুখী নাই ;– ভাসে শুকশারী নয়ন-জলে, কোকিল কাদে তমাল-ডালে, ভ্রমর কাদে শতদলে, কুঞ্জে র্কাদেন রাই। কাদে স্থানে স্থানে ব্ৰঙ্গ না, কেউ কারো কথা শুনে না, বিরহেতে প্রাণ বঁাচে না, দুঃখে বহে নয়ন-জল।