পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গদাধর । বোঝা ভার, শ্রাম হে তোমার, করুণা। যথা রও, তার হও গে, দেখ বুঝে ; আগ্রে রাধা, রাধা নামের পর, তোমার কৃষ্ণের নাম সাজে। আছে শ্রীরাধাকৃষ্ণ নাম, বিখ্যাত যুগল নাম, হরি, মধুর যুগল ভাব লুকাতে তে পারবে না। ষোড়শ গোপিনী শ্ৰীবৃন্দরণ্যে, তার মধ্যে রাধা, | , গোপীপ্রধান ধষ্ঠ মান্ত রাজকন্তে। সবে দাস্তক্রিয়া করে, পেলাম না তোমারে, কুজার ফল্লো ফল ;–স্বপনে তাও ত জানিনে, ওহে চন্দনদানের এত ফল | আমরা ত ফুল তুলসী দিতাম সখা,— ওহে হরি, ভাল, তাতেও ত ছিলহে চন্দন মাখ, বুঝি কৃষ্ণসাধনের ফল, ভাগ্যগুণেতে ফলে ফল, সে ফল অভাগী গোপীর ভাগ্যে ফেল্পে না । নিভূত নিকুঞ্জে দেখেছি সবাই, ৰিহারিতে রঙ্গে বিনোদবিহারী, সাথে বিনোদিনী রাই। লিখে দাসখত স্বহস্তে, শ্ৰীমতীর শ্রীহস্তে, দিলেহে কুঞ্জেতে, দয়াময়, তা ত মনে হয়, সে খতে সাক্ষ্য আছেন ললিতে ॥ তোমার সেই দাসখত লও হে হরি, খাতক গেল, মিছে খত রেখে, কি করিবেন রাই কিশোরী। নিজ কৰ্ম্মের ফল পেলেন রাই, তোমার দোষ কিছুই নাই,-হরি, কিন্তু মৰ্ম্মচ্ছেদ ক’ল্পে ধৰ্ম্মে সবে না। দুই রাজ্যে দুজন রাজা, বল প্রজা হ’ব কার। তুমি রাজা, ব্রজে রাই রাজা, কৃষ্ণ আমরা দোহাই দিব কোন রাজার। ললিত বিসাধ, বুন্দে চিত্ররেখা, আলি মধুধাম, রাজসভায়, রাজসম্বোধনে কয়, রাজা কৃষ্ণে ক’রিয়ে প্রণাম । শুন শুন ওহে বনমালী, বলি ৰ'লি, সব মনের দুঃখের কথা তোমায় বলি। আমরা কোথায় বাই, ব্রজে রইলেন রাই, তুমি রইলে, পেয়ে কংসের রাজ্যভার। Mm=-- సిసి জান্তে এলাম তাই খাম হে যমুনার পর। থাকি ব্রজে, একবার মনে করি ; তা কি পারি তাম, তোমায় না দেখে প্রাণে মরি, এলে মথুরায়, মন ব্রজে ধায়, প্রাণ কঁদে হে, বিচ্ছেদে সেই শ্রীরাধার। যখন কুঞ্জে ছিলে হৃষীকেশ — প্রেমরাজ্যের কথা হয়েছে শ্রীরাধার হে ; ব্রজের রাজ্য ছিল রামরাজ্যের প্রায়, নাহি ছিল দুঃখের লেশ। পরমমুখেতে গোপিকাগণ হে ক’রিত মুখে বাস, উঠ তো নিত্য রসের লহরী, বাধাকৃষ্ণে করিতে বিলাস ! এখন কৃষ্ণ, হওয়াতে অন্যথা, দঁাড়াই কোথা, কোন রাজ্যে থাকূলে ঘুচিবে মনের ব্যথা। একবার মধুবন, আবার বৃন্দাবন, যাতায়াত পরিশ্রম, সহে না আর ॥ রাই শত্রু রেখো না হে গুম রায়, বধ ক'রে ব্রজের রাধারে, মুখে রাজ্য কর লয়ে কুজায় ॥ বৃন্দে গে কৃষ্ণে কয়, শুনেছি দরাময়, ক’ল্পে ত সকল শত্ৰুনাশ । ক'রে ধ্বংস, প্রধান শক্র কংস, যদুবংশের বাড়লে উল্লাস ॥ তোমার আর এক শত্রু ব্ৰজে আছে, সে মোলে সব কণ্টক ঘোচে, মোলে, সেও হে প্রণেতে বঁাচে ; রাজার নন্দিনী, হ’ল বিরহিণী, বল হে, কত দুঃখ সবে আর ॥ ঋণের শেষ, শত্রুর শেষ, রাখলে প্রমাদ ঘটায়। তুমি হয়ে রাধার প্রেমের ঋণী, তায় করলে কাঙালিনী, তোমার ও গুণ জানি জানি, এখন বধিলে রাধার প্রাণ, বাড়িবে অধিক মান, মুক্ত হবে রাধার প্রেমের দায় ॥ ജ്യ তোদের মধুপুরে আছে— ঐরাধার প্রাণের ঐরী কোনূ নারী।