পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ra a কেমন রমণী সে, তারে দেখা গো, একবার দেখি গো, শুনেছি গে, তারি প্রেমে, বিক্রীত হয়েছেন সেই শ্ৰীহরি। যত মথুরা নগরী, মধুর রাজ্য হেরি, ন্দে কয় বিনয় বচন । দাড়া গো, একবার দাড়া গে, তোরা দুখিনীর দুটো কথা শোন। বড় ৰিপদে পড়ে তোদের রাজ্যে আমার আসা। আমরা গোকুলের গোপিনী, শু্যাম তাপের তাপিনী, গোবিন্দ করেছেন এই দশা। এই মথুর নগরে, কুজা নাম্ কে ধরে, এখন যরে, কৃষ্ণ করেছেন নূতন মুন্দরী। বিশেষ কথা জিজ্ঞাসা করি। তারে দেখি নাই গে, লোকের মুখে এ নাম শুনি সে যে ব্রজের ধন, কৃষ্ণধন, রাধার সর্বস্ব ধন, সেই ধনের গ্রাহক সেই রমণী। বড় রসিকা সেই ধনী, রসিকমনোমোহিনী, প্রেমের ফঁাদে পড়েছেন রসিকচাঁদ বংশীধারী। তোমরা মধুপুরের কুলাঙ্গন, আমরা ব্রজের ব্ৰজঙ্গন, দেখা হওয়া ভার, কথা কই গো সার, ওগো, ভাগ্যক্রমে আজ এখন, পেলাম যদি দরশন, শুধাই সমাচার ; তোরা যাস্নে গো, যানে গে, 曾 বোস্গে একবার। দেখে গোপিকা সামান্তে, করিসনে অমান্তে, যে জন্তে এলাম তাই শোনৃ; পরধন নাহি প্রয়োজন, সদা নিজধন করি অন্বেষণ ॥ একজন তোদের দেশে ছিল, আগে কংসের দাণী ; এখন কংসের আর রাজ্য নাই দাসীর দাসীত্ব নাই, সেই দাসী হ’ল রাজ-মহিষী। তোমরা জান কি গে৷ তারে, যে এই মধুপুরে, রাধার গলার নীলকান্তমণি করেছে চুরি। বাঙ্গালীর গান । ওগে কুজা গে, আমায় বলে দে গো, মন্‌চোরের বাসা কার স্বরে। ব্ৰজগোপীর মন চুর কোরে, এসেছেন মধুপুরে, সেই চোর—এই চোর, ব্রজের মাখনচের, এমন চোরের মন চুরি কল্পে কোন্‌ চেরে। এই ব্রজের ব্ৰজনাথ, ব’লিয়ে ধরে হাত, বৃন্দের আনন্দঙ্গদয়। ঈষৎ ভঙ্গি ছলে, কথার কৌশলে, গিয়ে দূতী, কুজার প্রতি কয়। ওকি কর গো রাজমহিষী, বেরো গো, আমরা সব আহিরিণী, কুষ্ণপ্রেমকা ৪ালনী, জের আমার বুন্দে নাম কমলিনীর দাদী। তুমি রাজপটের ঈশ্বরী, আমরা ব্রজনারী, এনেছি তোমার কাছে চোর ধ’রে । হ’রে মন, আছে কে এমন, বল গো, বল গো আমারে । তাই ভাবি গো, ভাবি মনে, কুজা গো, যার রূপে জগং ভোলে, কার রূপে সে জন ভোলে,—বল গো, সে কি মনচুরীর মন্ত্র কিছু জানে। তরে দেখবো গো একবার, কি আকার, কি প্রকার, কি গুণে বেঁধেছে শুমে, প্রেমডোরে ॥ ব্রজনার বুঝতে নারি, মনচোরের মন করে হরণ, এমন মোহিনী-বিদ্যাসিদ্ধ কোন নারী ! শুনেছি পুরাণে, সমুদ্রমন্থনে, মৃধা করিলেন বিতরণ; গিয়ে মনোমোহিনীর বেশে নরায়ণ, ভুলাইলেন মহাদেবের মন। ও কার আছে গো এমন সাধ্য, যে - হে জগদ্বাধ্য, জগতের দুররাধ্য ধন গো, এমন কে আছে তারে করে বাধ্য ! দে যে কি মন্ত্র পেয়েছে, কোথায় কি জেনেছে, কি গুণে বেঁধেছে নটবরে ৷ বুঝি নিবল রাধে, তোমার অস্তরের কৃষ্ণবিরহ অনল । হেরে অস্তরে কালাচাদ,অন্তরের পুরাও সাধ, অন্তর কোরন আর নীলকমল।