পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৩৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


وخوف ج: (কত যতন করে গে, ভুজঙ্গ দমন লাগি ।) বন্ধুর লাগি কৈলাম যত, এক মুখে কব কত, হত বিধি সব কৈল হত । সে সব বৃথায় গেল গো, আমার করম দোষে ॥ মনোহরসাধী—লোভ। রাই, ধীরে ধীরে চল গজগামিনি। অমন কোরে যাইস্নে গো ধনি — বারে বারে বারণ করি রাই। একে বিষাদে তোর কুশ তনু,—রাধে প্রেমময়ি, মরি মরি, স্থাটিতে কঁাপিছে জানু গে। তুই কি আগে গেলে কৃষ্ণ পাৰি— * চঞ্চল হইলি কেন ? (না জানি আজ) কোথা পড়ে প্রাণহারাবি গো। কত কণ্টক আছে গো বনে,ধীরে যাগো কমলিনী ফুটবে দুটি চরণে গে। কত বিজাতি ভুজঙ্গ আছে— ( দেখিস ধনি ) গহন কানন মাঝে । (দেখ্রিস্ দেখিস্) কমলপদে দংশে পাছে গো। হ’লে নয়ন ধারায় পিছল পথ,— আর কাদিসন বিধুমুখি। (বলি) যাইস না রাই এত দ্রুত গো। মোদের কান্ধে দুটি বাহু থুয়ে,— আমরা ত তোর সঙ্গে ধাব,—( কমলিনি)। চলগো পথ নিরখিয়ে গো ॥ মনোহরসহী--লোভা । এই কাননে গো, এইত কাননে, সখি গো, এই ত কাননে । কাম চরাইত গো ধেনু, এই ত কদম্বমূলে বাজাইত বেণু বন্ধু মনের কতই বা সুখে । বেণুরবে ধেনু চরাইত বন্ধু কতই বা মুখে। আমি তোমা সবার নিয়ে সনে সনে ( ও সখি ) সদা আসত্তেম গুম দরশনে, মনের কতই বা মুখে ॥ এই কদম্বের মূলে নিয়ে গোপকুলে, চাদের হাট মিলাইত গে– বাঙ্গালীর গান । সে রূপ রয়ে রয়ে মনে পড়ে গো। সখি প্রিয় সখার অঙ্গে, হেলায়ে শ্ৰী অঙ্গে, ত্রিভঙ্গ হয়ে দাড়াইত গো—বন্ধু কতই রঙ্গে ! কত সহচর দলে, ফুল ফলে দলে, কি কৌশলে সাজাইত গো— তখন সে মুরলীধরে সে মুরলী ধরে বাজাইত গে অভাগিনী রাধায়, কলস্কিনী রাধায়, তখন শুনিয়ে মুরলীধ্বনি, আমি হতেম যেন পাগলিনী, পথ বিপথ নাহি জানি, অমনি বাহির হতেম গো, বর লাগি সখি, চলিতে চরণ কত, বিষধর বেড়িত, মণিময় নুপুর মানি, ফিরে চাইতেম্ না কোচরণ পানে ॥ আমি আসিতেম রাশীর তীনে, ( সখি ) তখন কেবা চাইত পথপানে, কতইবা মুখে সখি, একদিন চম্পকের ফুল, হেরি য়ে ব্যাকুল, হইল গোকুলশশী গো । (অমনি) কোথা রাধা বলে, পড়িলেন ভূতলে, ধরিল মুবল আসি গো—হায় কি হলো বলি। সে যে দেখে অচেতন, করিল যতন, চেতন যদি না হ’লোগে, তখন বন্ধুর সে বোল, যাইয়ে সুবল, সকাতরে জানাইল গে—মুবল কেন্দে কেন্দে তখন শুনিয়ে বন্ধুর কথা, আমার মরমে লাগিল ব্যথা, উপর না দেখি বিচারিয়ে, হায় হায় কি করিব গো—বন্ধুর লাগি । তখন আপন ভূষণ দিয়ে, সুবলকে রাই সাজাইয়ে, এলেম আমি সুবল হইয়ে ধড়া চুড়া পরে গে—সুবলের ॥ দেখি নীলগিরি ধরায় পড়ে, অমনি তুলে নিলেম ধূলো কেড়ে, রাখিলেম তাম হিয়ার মাঝরে, কত বতন করে গো। আমার পরশে চেতন পেয়ে, বলে আমার মুখ চেয়ে, কোথা আমার পরাণ কিশোরী— স্ববল বল বলরে—কেঁদে বলে।