পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৫৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


「8ጭ © অৰ্দ্ধচন্দ্র শিরোপরে, ত্রিনয়নে শোভা করে, প্রবালাভ চতুষ্করে, শোভিত কমলাননা। ইক্ষুময় শরাসন, পাশাঙ্কুশ পুষ্পবাণ, করে করেন ধরণ, সিদ্ধিপ্রদাননিপুণ ॥ সৰ্ব্বকামনা পুরণী, সৰ্ব্ব দেব-স্বরূপিণী, চন্দ্রদুঃখ নিবারিণী, ক্রীবিদ্য শঙ্করাঙ্গন ॥ মহারাজ যতীন্দ্রমোহন। কি সম্মান-সম্বমে, কি বিদ্যার প্রভাবে, কি বিভব-সম্পদে, কি যশো-সোরভে, কি গুণ-গৌরবে, —মহারাজ স্যার যতীন্দমোহন, অধুনা বাঙ্গালীর শীর্ষস্থানীয়। কলিকাতা-পাথুরিয়াঘাটার সুপ্রসিদ্ধ ঠাকুর-ব’ শে ১২৩৮ সালে (১৮৩১ খৃষ্টাব্দে ) অক্ষর তৃতীয়ার দিন মহারাজ যতীন্দ্রমোহন জন্মগ্রহণ করেন । ইহঁরা সাণ্ডিলা-গোত্রজ, ভট্টনারায়ণধংশ-সস্থত। ইহার পিতার নাম—হরকুমাব ঠাকুর। হরকুমার নিজে যেরূপ পণ্ডিত ছিলেন, পুত্র যতীন্দ্রমোহনের বিদ -শিক্ষারও সেইরূপ সুব্যবস্থা করেন । সেই সুব্যবস্থার গুণে এবং স্বীয় প্রতিভার প্রভাবে, মহারাজ যতীন্দ্রমোহন আজি বাঙ্গালা, ই রাজী, সংস্কৃত প্রভৃতি বিবিধ ভাষায় সুপণ্ডিত । যেমন সুপণ্ডিত, আবার তেমনই সুলেখক । কি ইংরাজী, কি বাগtলা, কি সংস্কৃত সকল ভাষার রচনাতেই ইহঁর অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। অনেকে উদ্ভট সংস্কৃত শ্লোক পণ্ডিতদিগের মুখে শুনিতে পাওয়া যায় ; কিন্তু কে জানে—সেগুলি । মহারাজ যতীন্দ্রমোহনের বিরচিত ? অনেক মধুর সঙ্গীত বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে গীত হয় ; কিন্তু কে জানে, ' তাহার রচয়িতা মহারাজ দেখিয়া আসি, আমাদের মধ্যে কয় জন জানেন— উহা মহারাজ যতীন্দ্রমোহনের লেখনীপ্রসুত । মহারাজ কখনও নামের জন্ত লীলায়িত নহেন ; কিন্তু তাহার প্রতিভা ও সদগুণের প্রভাধে তাহার নাম অমরত্ব লাভ করিয়াছে । তিনি কেৰল সুলেখক নহেন ; বাঙ্গালী সাহিত্যের ও সঙ্গীতের উৎসাহদাতা তাহীর স্তায় আর কয় জন আছেন ? আজ যে আমরা মাইকেল মধুসূদনের অমিত্রাক্ষরচ্ছদে মুগ্ধ হইয়াছি, তাহারই বা মূল কে ? মহারাজের উৎসাহেই মাইকেল অমিত্রাক্ষরচ্ছন্দে বাঙ্গালীর গান । তিলোত্তম-সম্ভব" কাব্য প্রথম রচনা করেন। মহারাজের স্বায় দয়ালু ও পরোপকারী ব্যক্তি অল্পই দেখিতে পাওয়া যায়। কেবল অর্থের স্বারা নহে ; অন্ত নানা উপায়ে তিনি লোকের উপকার করিয়া থাকেন। মহারাজের গুণ-গরিমার গবর্ণমেণ্ট পর্য্যন্ত মুগ্ধ ; গবর্ণমেণ্টের নিকট হইতে ১৮৭১ খৃষ্টাব্দের ৭ই মার্চ ‘রাজা’ উপাধি, ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারী মহারাজা' ১৮৭৯ খুঃাব্দের ২৮এ জুলাই কে-সি-এস-আই, ১৮৮১ খৃষ্টাব্দে পুরুষানুক্রমিক ‘মহারাজ' উপাধি-ইনি প্রাপ্ত হন । ইনি ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে বঙ্গীয় বাবস্থাপক সভার সদস্য, ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারী বড়লাটের ব্যবস্থাপক সভার সদস্য, এবং ১৮৭১ খৃষ্টাব্দে ‘ব্রিটিশ ইণ্ডিয়ান র্যাসোসিয়েশন’ জমীদার সভায় সভাপতি ও দ্বিতীয় বাব বড় লাটের ব্যবস্থাপক সভায় সদস্য মনোনীত হন । মহাবীজের বয়ঃ কম এখন ৭৫ বৎসর। ভগবানের নিকট আমব1র্ত হ'ব আরও দীর্ঘজীবন প্রার্থনা কবি । স্বরট-খাম্বজি--খেম্টা। আহা মরি একি হেরি অপরূপ কাননে । নির্জনে গড়েছে বিধি এ নবীন রতনে ॥ এরদের পূর্ণশশী, ভুমে কি পড়িল খসি, যতীন্দ্রমোহন ? ঐ ! ষে থিয়েটারে উভয় সঙ্কট’, ‘চক্ষুদান, যেমন । কাৰ্য্য তেমনি ফল প্রভৃতি প্রহসনসমূহের অভিনয় । অনঙ্গ কি অঙ্গ ধরে, বিহরিতে ভুবনে। এরূপ দেখিলে পরে, রতি-মন মোহ করে, রমণীর মন তাঙ্গে, স্থির হবে কেমনে ॥ মনে হেন সাধ যায়, এর লাগি পুনরায়, নবীন বয়স পেয়ে, রাখি হৃদি যতনে ॥ க-க মোহিনী-বাহার-খেম্টা। আঁখিতে কি ফল তার বল যে না দেখে তায় । রূপেতে বিরূপ রতি যার তুলনায়। ঘন জিনি কেশ ধরে, এলাইত হ’লে পরে, চিকণ চিকুরভার চরণে লুটায়। তার মাঝে মুখৰ্ছদি, জিনিয়ে শরদ-চাদ, দিবা নিশি সম শোভে, বিমল শোভায় ॥ সে অঙ্গের নাহি তুল, নহে কুশ নহে স্থূল, হেরিত্বে কনক লতা, লাজেতে লুকায়। যৌবনের ফুল তায়, কমল মুকুল প্রায়, | হৃদয়ের মাঝে সাজে, যোগীরে ভুলায়।