পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৫৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ճ o থাকি গিরি ধরাবাসে, তুলেছ শির আকাশে, ভৰতাপ দূরে রাখি, আবরি সদা তুহিনে। শিখাও নর-নিকরে, কিরূপে থাকি সংসারে, বিভুপ্রেমামৃতসরে ডুবাতে হয় জীবনে। দেবাত্মা তুমি ভূধর, সৰ্ব্বদা স্বাস্থ বিতর, বিজয় হৃদয়াময়, ঘুচাও যাচি চরণে। জয়জয়ন্তী—ঝীপতাল । বড়ই স্নেহপিপাসু কাঙ্গালী বাঙ্গালীগণ । তাই কি এস মা বঙ্গে ঘুচাতে দানবেদন । দুঃখে শোকে অপমানে, মরিয়া আছে জীবনে, পুনরায় পায় প্রাণে নিরখি তব বদন। অনাথ অধম মুতে; স্নেহ কোলে তুলে ল’তে, কে আছে মা এ জগতে, তুমি তারিণি যেমন। তাইতো মা দয়া বশে, মা হয়ে দুহিতা বেশে, বাধ মহামায়া পাশে, কাতরে করি যতন। মার মুখে মা মা বাণী, মানসে মধুর শুনি, দুখিনী বঙ্গরমণী, করে মুখে সস্তরণ। এস মা ভবমোহিনী, তুলে হাসি মুখখানি, হৃদয় মাঝে জননী, পাত তব পদ্মাসন। বিজয় পুলকে কয়, সতত বাসনা হয়, হইয়া তব তনয়, করি মা মা সম্বোধন ॥ ৪৩ ৷ ভৈরবী—একত্তালা । কি কাজ থাকিয়া আজ মা বিনে শূন্ত ভবনে। ছেড়ে ভবখেলা মন চলরে জননী সনে ॥ জগত জড়তাময়, কঠিন নাহি হৃদয়, হয়েছিল সচেতন মার শুভ আগমনে । চিন্ময়ী হইয়া হারা, পুনঃ শবাকার ধরা, দেহে কিবা প্রয়াজন কাল হরিলে জীবনে । চল সেই কূট পুরে, মেরু শিখর উপরে, বিরাজেন যথা উমা সতত শঙ্কর সনে। সে শুভ মিলন দেখি, জুড়াও এ পোড়া আঁখি, বিজয় কেন হে দুঃখী সংসার-বিষ-দহনে ॥ ৪৪ ॥ বাকৃই-আড়া | ভাৰী হ’তে এক বর্ষ অতীত লইল হরি। কত শত আশা হায় স্মৃতিপরিণত করি। दाग्नाशाच्न स्थान । বিজয় এ শুভ দিনে, দেখহে বসি বিজনে, গত বর্ষ লাভালাভ, সুধীর ভাবে বিচারি। অসীম কৰ্ম্ম সাগরে, শুভাশুভ উৰ্ম্মি হেরে? মুখ, দুঃখ, ভ্ৰমে ভাব কেন আপনা পাশরি। প্রাণ অস্থিরতাময়, দুঃখ হেতু সদা ভয়, চিরস্থির পূর্ণভাব উচ্চতম সৰ্ব্বোপরি। এই সুখ দুঃখ পারে, যাতে লয়ে যেতে পারে, সে জ্ঞান লভিতে চেষ্টা কর দিবা-বিদোবরী ॥ সংসার-মুখ-সম্পদে, অবহেলি হরিপদে, বাধ মন, সে রতন ভবার্ণব পারে তরি। ভেবে দেখ অনুক্ষণ, কে তুমি কি প্রয়োজন, কি সংসার, কে স্বজন, কি শরীর কে শরীরী ॥ লুম থাম্বাজ—ঠুংরী। ভালবাসা বড় খাস, লোভে মেশা কভু নয়। আশার পিপাস যাতে সে যে নেসা বিষময় ॥ আপন ভুলিলে পরে, ভালবাসা যায় পরে, তৃষা আশা লোভ ইচ্ছা কিছু তাতে নাহি রয় স্বাৰ্থ আছে মূলে যার, স্নেহ নাম দিলে তার, সংহারক হলাহলে সুধা খ্যাতি দেয়া হয় । প্রেম ত্রিদিবের ধন, পেতে তার আস্বাদন, করেন সদা যতন, পূতচেতা সাধুচয় ॥ ভক্তি কল্পতরু-মূলে, এ ফল সতত মেলে, ভবে দু একটি স্থলে; পাবে কিছু পরিচয় । পিতা মাত হৃদিপটে, সে মুরতি স্বল্প ফুটে, সুন্দর বিকাশ তথা যথা ঘটে চিত্তজয় ॥ পিতৃ মাতৃ মনোভূমে, অস্কুরিয়া ধরাধামে, উঠি স্বর্গে ক্রমে ক্রমে, বিভু পদে পায় লয়। পর প্রতি স্বার্থ লাগি, হলে পরে অনুরাগী, সে লোভে বিষম ভ্ৰমে লোকে ভালবাসা কয় । হরি হে করুণা-গুণে, প্রেম কণা দাও মনে, য’তে পায় শ্ৰীচরণে, সে ভিক্ষ মাগে বিজয় ॥ ভৈরবী—আড়াঠেকা । ভবখেলা পাঙিবরে, হুইয়া ত্রিগুণময়। তিন রূপে কর বিভু, স্বজন, পালন, লয় ॥ সত্ত্বময় মুৰ্ত্তি তব, শীতল শাস্তি-প্রভব, ভকত-জন-রঞ্জন, ধানে মনে প্রেমোর।