পাতা:বাঙ্গালীর গান - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৫৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


go 8 বাঙ্গালীর গাম । থেকে থেকে পাতা পড়ে, বাতাঘাতে লতা নড়ে, মনে করি এই বারে এলো অই ;– আবার ভাবি এসে কাছে,গাছের আড়ালে আছে, নয়নের জল মুছে মুছে চেয়ে রই। সাধ ছিল দাড়াব বামে, প্রাণ ভরে দেখিব শুামে, বামে বাম তার দেখিনে আর আঁধার বই ;– শুকালে বনফুলের মালামাল গেঁথে হ’লোজ্বালা আমার, কেন কালা হরিল কোন রসময়ী ॥ মোহিনী—কাওয়ালী। তখন, বলেছিলাম রাই বনে যানে। একে যামিনী, তাতে কামিনী, ধনী, কি জানি কি হতে কি হবে স্বরের বাহির হোস্নে বলি, লম্পট নটবর, তরুণ তাহে নাগর, তার প্রেম-তরঙ্গে ভাসিনে ;– ভুগতে হবে আপন ভুলে,মাছিতে হানিবে হুলে, চাকে চে'লে গেলে মধু খানে ॥ দিবানিশি কালা কাল, কালা ভেবে হলি কাল৷ কালী-রোগে কথাত শুনিস্নে – যেমন কৰ্ম্ম তেম্নি ফল, এখন রাধে ঘরে চল, সাধের কান্না কেঁদে আর কাদস্নে ॥ পরজ-বাহার—কাওয়ালী । হার, শ্রাম শুকপাখী । ভুজ-দাড়ে বাধা থাকি, পালিয়েছে কল শিকৃলি কেটে দিয়ে গো ফাকি ৷ আমরা স্বত্ব-অধিকারী, তত্ত্ব ক’রে বেড়াই তারি, দেখলে পরে চিন্তে পারি, মনচোরা আঁখি । তোমরা কি দেখেছ পাখী বঙ্কিম সুঠাম, পার্থীর মাথায় পার্থীর পাখা (তায়) লেখা রাধার নাম,— সদাই পার্থী বঁাশীর স্বরে, রাধা রাধা গান করে, কে ধ’রে হৃদি-পিঞ্জরে দিয়েছে রাখি। আজ বলে নয়,চিরদিন তার শিকূলী-কাট রোগ, এক সমানে কোন খানে করে নাক’ ভোগ, ধাকৃতে দশরথভবনে শিকূলী কেটে পলায় বনে, আমাদের সে পোষ পাখী জানে সব লোকে, শারী শুকে মুখে মুখে ছিল গোলোকে— সেই শারী শুকুকে না দেখে, সারা হলো ডেকে ডেকে, খুঁজে বেড়ায় মনের দুখে, বনের সব শাখী।

  • -C의 1 ,

প্যারী, ঐ এলো তোর। ও তোর লম্পট-শঠ-গুমনটবর, পরবধূ-বাসে করে নিশি ভোর। ত্ৰিলোক-রঞ্জন তিলক-অঞ্জন, ঐ দেখ প্যারী। হয়েছে ভঞ্জন, কেশ বেশ ছিন্ন ভিন্ন কি লাঞ্ছন, সিন্দুরের চিহ্ন কপালে ওর। সারা নিশি জেগে আসিতেছে উঠি, আসিতে অলস টলে পদ দুট, জগুণ থাকি থাকি চায় আঁখি উলটি, রয়েছে ঘুমের ঘের ;– শ্ৰান্ত প্রাণকান্ত প্রেমের অস্ত করি, দেখে দুঃখ হয় রাগে জ্বলে মরি, ফুল-শয্যা করে দে দে কিশোরী, পাসরি যে জাগা দিলে কিশোর। গোপীর প্রেমভারে তিন ঠাই ভঙ্গ, ভরের উপর ভারে ভঙ্গ সৰ্ব্ব অঙ্গ প্রভাহীন প্রভাতে করে অপমঙ্গ, সে চাদ নয় যেন চোর ;–কমল-বন উদ্দেশে এসে পথ ভুলে, পড়েছিল অলি কেতকীর ফুলে, কৃষ্ণ-সেবার সে কি জানে গোকুলে, বলতে পারি আমরা করিয়ে জোর। রামকেলী-আড়াঠেকা। কত ডুবে ডুবে রতন পেলি সাগরের তলায় গে। পর-পরশন দোষে (আঙ্গ) ত্যজিল ধূলায় গো ॥ যে রতন রয় ছদৃকমলে, সে পড়ে তোর চরণ-তলে, আবার পালিয়ে আসে বৃন্দাবনে, শুন নাই তা কি। চেয়ে দেখ রাই! নয়ন মেলে, আহা, মলিন মলায় গো।