পাতা:বাঙ্গ্‌লার বেগম - ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বাঙ্গ্‌লার বেগম

হ্রাস হইলে—রূপজ-মােহের ঘোর কিছু কাটিয়া আসিলে, তিনি তাঁহার গুণের পক্ষপাতী হইলেন। রূপ-লালসার স্থান প্রেম অধিকার করিল। গুণমুগ্ধ সিরাজ ক্রীতদাসীকে আত্মসমর্পণ করিয়া ফেলিলেন—তাঁহাকে প্রণয়িণীরূপে গ্রহণ করিতে স্বীকৃত হইলেন; কিন্তু এই প্রস্তাব মাতামহীর নিকট কি প্রকারে উথাপন করিবেন, ইহা ভাবিয়াই উভয়ে অস্থির হইলেন। শেষে বুদ্ধিমতী লুৎফুন্নিসার পরামর্শে মাতামহীর নিকট সিরাজ সকল কথাই জ্ঞাপন করিলেন। মাতামহীও স্নেহের সিরাজের ভাবান্তর কিছুদিন হইতে লক্ষ্য করিতেছিলেন। তিনি সিরাজকে এই বিবাহ হইতে নিবৃত্ত করিবার জন্য নানা উপদেশ দিলেন— কত সুন্দরী কন্যার প্রলােভন দেখাইলেন—বাঙ্গালার ভাবী নবাবের পক্ষে ক্রীতদাসী- বিবাহ যুক্তিসঙ্গত নয়, ইহাও বুঝাইলেন; কিন্তু সিরাজের মনে সেগুলির একটী রেখাও মুদ্রিত হইল না। সিরাজ মাতামহীর নিকট প্রতিজ্ঞা করিলেন—বাঙ্গালার মসনদ চাই না—চাই না তােমার রাজৈশ্বর্য্য—চাই শুধু লুৎফুন্নিসা। যদি লুৎফুন্নিসাকে না পাই, তবে ফকিরী গ্রহণ করিয়া নির্জ্জন বনে বাস করিব। মাতামহী সিরাজ-চরিত্র বুঝিতেন, তিনি নবার আলিবর্দ্দীর নিকট সকল কথা খুলিয়া বলিলেন। আলিবর্দ্দী এই সংবাদ শুনিয়া প্রথমে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়াছিলেন, কিন্তু বেগম সাহেবার অনুরােধে শেষে তাঁহাকে সম্মত হইতে হইয়াছিল—প্রণয়িণীর চক্ষের জল অটলপ্রতিজ্ঞ বৃদ্ধ নবাবকেও দ্রবীভূত করিয়াছিল।

 লুৎফুন্নিসা সিরাজের পরিণীতা পত্নী কি না, এ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে অনেক বাদানুবাদ দেখিতে পাওয়া যায়। প্রথমতঃ, আমরা দেখিতে পাই, হাজি অহম্মদের দৌহিত্রী—আতা উল্লা খাঁর কন্যার সহিত সিরাজের বিবাহ ধার্য্য হয়; কিন্তু হঠাৎ ঐ কন্যাটীর মৃত্যু হওয়ায়, ইরাজ খাঁর কন্যার সহিত সিরাজ পরিণয়-সূত্রে আবদ্ধ হ’ন এবং এই ইরাজ খাঁর