পাতা:বাঙ্গ্‌লার বেগম - ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জিম্নতুন্নিসা

 ইহার অত্যল্পকাল পরেই মহাপ্রতাপশালী নবাব মুর্শিদকুলির নথর দেহ শীতল সমাধিতলে বিশ্রামলাভ করিল। তাঁহার মৃত্যুর কয়েক দিবস পূর্ব্বেই সুজা আলিবর্দ্দীকে সঙ্গে লইয়া মুর্শিদাবাদ যাত্রা করিয়াছিলেন; পথিমধ্যেই তিনি দিল্লী হইতে পরওয়ানা প্রাপ্ত হইলেন ও শ্বশুরের মৃত্যু সংবাদ শুনিলেন। উপযুক্ত অবসর বুঝিয়া, তিনি সসৈন্যে মুর্শিদাবাদের পথে অগ্রসর হইতে লাগিলেন। রাজধানীতে উপস্থিত হইবামাত্রই ভাগ্যলক্ষ্মী তাঁহার উপর প্রসন্না হইয়া, তাঁহার মস্তকে মণিময় মুকুট পরাইয়া দিলেন—সুজা খাঁ বাঙ্গালার নবাব হইলেন।

 জিন্নতুন্নিসা তখন সরফরাজের সহিত মুর্শিদাবাদ হইতে ২ মাইল দুরে অবস্থান করিতেছিলেন। সরফরাজ তখনই পিতৃসকাশে আগমন করিয়া তাঁহার চরণ বন্দনা করিলেন, তাঁহার মসনদ অধিকারে কোনরূপ বিষণ্ণচিত্ত না হইয়া, বরং প্রচুর আনন্দ প্রকাশ করিলেন। পিতাপুত্রে এই ভাবেই মিলন হইল। সুজাও পত্নীর নিকট গতজীবনের জন্য অনুশোচনা করিয়া দণ্ডায়মান হইলে, ধর্ম্মপরায়ণা পত্নী পতিদেবতার সকল দোষ ভুলিয়া গিয়া চরণতলে লুণ্ঠিত হইয়া পড়িলেন। এইরূপে পিতৃবিয়োগ-বিধুরা সন্তপ্ত জিন্নতুন্নিসা প্রেমাস্পদের সহিত মধুর মিলনে মিলিত হইয়া, পিতৃশোক কিয়ৎ পরিমাণে উপশম করিয়াছিলেন।

 এই সময়ে আজিমাবাদ পাটনা বাঙ্গালার শাসনকর্ত্তার অধীনে আসিল ও তাহার শাসনভার সুজার হস্তে পড়িল। সুজা খাঁ তাহার দুই পুত্র সরফরাজ ও তকী খাঁর[১] মধ্যে কাহাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করিবেন, তাহা স্থির করিয়া উঠিতে পারিলেন না। জিন্নতুন্নিসা স্বীয় পুত্র সরফ-

৬১


  1. হলওয়েল সাহেব বলেন, মহম্মদ তকী, জিন্নতুন্নিসার গর্ভজাত।