পাতা:বিদায় ভোজ - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৬

দারোগার দপ্তর, ২০৩ সংখ্যা।


একটু সরিয়া দাঁড়াইলাম। দেখিলাম, পূর্ব্বোক্ত দোকানদার অপর দোকানদারকে কি দেখাইতেছেন। দ্বিতীয় দোকানের অধিকারীকে ব্যগ্রদৃষ্টিতে তাহা অবলোকন করিতে দেখিয়া এবং তাঁহাকে বিস্মিত দেখিয়া আমার অত্যন্ত সন্দেহ হইল। আমি তখনই একটা অছিলা করিয়া সেই দোকানে প্রবেশ করিলাম।

 যে দোকানে প্রবেশ করিলাম, তাহার অধিকারী তখনই আমায় সম্ভাষণ করিয়া তথায় যাইবার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি প্রস্তুত ছিলাম, তখনই পকেট হইতে ঘড়ি ও চেন বাহির করিয়া বলিলাম, “আপনারা এই দুইটী দ্রব্য ক্রয় করিবেন?”

 দোকানদার দুই একবার দেখিয়া বলিলেন, “আমরা এরূপ ঘড়ী ক্রয় করি না। তবে চেন ছড়া বিক্রয় করেন ত লইতে পারি।” ঘড়ী বা চেন বিক্রয় করা আমার অভিপ্রেত ছিল না। যখন দেখিলাম, সেখান হইতে প্রস্থান করিবার বেশ সুবিধা হইয়াছে, তখন আমিও আর কালবিলম্ব করিলাম না। বলিলাম, “না বাপু; কেবল চেন বিক্রয় করিবার জন্য আমি এখানে আসি নাই। যদি ঘড়ী ও চেন দুইটীই ক্রয় করেন তাহা হইলে আমি সম্মত আছি, নচেৎ চলিলাম।”

 এই বলিয়া উত্তরের অপেক্ষায় দাঁড়াইয়া রহিলাম। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে পূর্ব্বোক্ত দোকানদারের হস্তে যাহা ছিল, তাহাও দেখিয়া লইলাম। তাঁহার হাতে একটী আংটী ছিল।

 আংটী দেখিয়া আমার সন্দেহ বৃদ্ধি হইল। সেখান হইতে নড়িতে ইচ্ছা হইল না দোকানদারও আমার কথার উত্তর দিতে বিলম্ব করিতে লাগিল দেখিয়া আমি যেন বিরক্ত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি বলেন, ঘড়ীটী কিনিবেন কি?