পাতা:বিদ্যাসাগর (বিহারীলাল সরকার).pdf/৬৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিদ্যাসাগর।

প্রাফার শরৎচন্দ্র সেন মহাশয়কে ডাকাইয়া আনাইয়া ঠিক সুর্য্যোদয়ে ফটোগ্রাফ তুলাইয়া লন।

 দেখিতে দেখিতে, ক্রমে শ্মশান ঘাট অসংখ্য জনসমাগমে পূর্ণ হইল। সকলেই বিদ্যাসাগরকে শেষ দেখা দেখিবার জন্য উদগ্রীব। অনেক স্ত্রীলোেক দেখিতে গিয়াছিল। যাঁহারা প্রত্যহ প্রাতঃস্নানে যাইয়া থাকেন, তাঁহারা সংবাদ পাইবামাত্র সর্ব্বাগ্রে শ্মশানে গিয়া উপস্থিত হন। সেই সময় প্রকৃতি, প্রকৃতই একটা বিশ্বব্যাপিনী সৌম্য-গম্ভীর শোকময়ী মূর্ত্তি ধারণ করিয়াছিল। ভাগীরথীর কলকলনাদে সমাগত ব্যক্তিবর্গের হাহাকার-আর্ত্তনাদ এবং অশ্রুভারাবনত আত্মীয়বর্গের নীরব দীর্ঘশ্বাস মিশিয়া কি যেন এক অপূর্ব্ব দৃশ্যের আবির্ভাব হইল।

 ফটোগ্রাফ তুলাইতে এবং সমাগত ব্যক্তিবর্গের দর্শনাকাঙ্খা মিটাইতে সৎকারের বিলম্ব হইয়াছিল। সূর্য্যোদয়ের পর শবদেহ চিতা-শয্যায় শায়িত হয়। চিতার অন্য বড়বাজার প্রভৃতি স্থান হইতে যথাসম্ভব চন্দনকাঠ সংগৃহীত হইয়াছিল। মুহূর্ত্তে চিতা জ্বলিল! পুত্র নারায়ণ মুখাগ্নি করিলেন।[১] বেলা প্রায় ১১টা পর্যন্ত চিতা জ্বলিয়াছিল। ক্রমে সব ফুরাইল। চিতা নিবিল। অনেক ভক্ত অস্থি ও ভস্ম সংগ্রহ করিয়াছিলেন। দৌহিত্রদ্বয় দুই কলস ভস্ম সংগ্রহ করিয়া আনিয়াছিলেন। যাহা অবশিষ্ট ছিল, তাহাও দুই দিন পরে জাহ্নবী জলে মিশাইল। কিছুই রহিল না! রহিল কীর্ত্তি! আর রহিল স্মৃতি! কবি মানকুমারী

  1. বিদ্যাসাগর মহাশয়, মুমূর্ষু পত্নীর নিকট যে প্রতিশ্রুতি করিয়াছিলেন, ফরাসডাঙ্গায় শেষ প্রবাসে তৎপালনের প্রমাণ পাওয়া গিয়াছিল। নারায়ণ বাবু পিতৃ শুশ্রূষার অধিকার পাইয়াছিলেন।