প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বিষাদ-সিন্ধু এজিদ্‌-বধ পর্ব.pdf/৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ প্রবাহ । ඵ්ද්‍රි এজিদ প্রাণ ভয়ে পলাইতেছে। অন্য কোন কথা সে সময় মনে উদয় হইবার কথা নহে। প্রাণ বঁাচাইবার পন্থাই নানা পথে, নানা প্রকারে মনে মনে আঁচিতেছেন। আর একথাটাও বেশ বুঝিষাছেন, যে মোহাম্মদ হানিফ তাহার প্রাণবধের ইচ্ছা করিলে,—বহু পূৰ্ব্বক্ষণ শেষ করিতে পারিতেন, তাহ করিতেছেন না । মন ডাকিয়া বলিতেছে, “এজিদকে হানিফা ধরিবেন, মারিবেন না। প্রাণে মাবিবেন না। হইতে পারে, এজিদের উপর অস্ত্র নিক্ষেপ নিষেধ, এ দুয়ের এক না হইয়। এরূপ ভাবে বীরের সম্মুখে,—বীরবরের অস্ত্রেব সন্মুখ হইতে এতক্ষণ পর্য্যন্ত বাচিয় থাকা সৌভাগ্যেরই কথা । এখন কোন উপায়ে ইহাব চক্ষেব অগোচৰ হইতে পালিলেই রক্ষা । হানিফ চিরদিন দামদ্ধে বাস করিবে না। এই সন্ধ্যা পর্যন্ত যমের হস্ত হইতে বাচিতে পারিলেই প্রাণ বঁাচে । সূৰ্য্যাস্ত পৰ্য্যন্ত এই প্রকার ঘোরাফেরা করিয়া সময় কাটাইতে পারিলেই আর ভয়ের কাবণ নাই। আমার পরিচিত হানিফার অপরিচিত দেশ এবং পথ । আমি অনায়াসেই অন্ধকারে চলিতে পারিব । আজিকার অস্তই আমার শুভ অস্ত। জীবন বক্ষার একমাত্র উপায় ।” এই সকল চিত্ৰ শ্রেণীবদ্ধরূপে যে এজিদের মনে উদয় হইয়াছিল, তাহ নহে। প্রাণান্ত সময়েব পূর্ব লক্ষণ যেমন মণবাণ বিকার, ক্ষণকাল অজ্ঞান, ক্ষণকাল ঘোর অচৈতন্য, ক্ষণকাল সজ্ঞান। “লেই সজ্ঞান সময়টুকু মধ্যে ঐরূপ চিন্তার ঢেউ সময়ে সময়ে এদিদেব মনে উঠতেছিল। এজিদ হস্ত হইতে অশ্ববল্লা ছাড়িয়া দিলেন । সজোরে কণাঘাত করিতে,লাগিলেন । এখন আর দিগ্বিদিক স্থান নাই ৯ জুখের স্বেচ্ছাধীন গতিই তাহার গতি । অশ্বের মন্মত পথই তাহাব বাচিবার পথ। আর দক্ষিণ বামে ফিরাইয়। পলাষ্ট্রবার চেষ্টা করিতেছেন না। ঘোড়া আপন ইচ্ছামত ছটিয়াছে। হানিফ কিঞ্চিৎ দূরে পড়িলেন। উচ্চৈঃস্বরে ডাবিয়া বলিতে লাগিলেন,— এজিদ । হানিফার দুস্ত ইইতে তোমার আজ নিস্তাব নাই। কিন্তু এজিদ, এ অবস্থায় তোমাকে প্রাণে মারিব না। জীয়ন্ত ধরিত্ন । তোমার গ্লণ্ডিত শিরের ধরাবলুষ্ঠিত ভাব, শির-শূন্য দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়ার দৃশ্য ভাব, হানিফ একা দেখিতে ইচ্ছা করে না । বিধে বীরের আবাত, চারি চক্ষু এবত্র ক্লরিয়া। আমি”কাপুরুষ নহি যে, তোর পশ্চাৎ দিক হইতে অস্ত্র