প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট چ ه ډ. নাথ !” উদয়াদিত্য ব্যাকুল হইয়া কহিলেন, “কী ইয়াছে সুরমা ?” সুরমা কহিল, “বোধ করি আমার সময় হইয়া আসিয়াছে,” বলিয়া উদয়াদিত্যের কণ্ঠ আলিঙ্গন করিবার জন্য হাত উঠাইতে চাহিল হাত উঠিল না! কেবল মুখের দিকে সে চাহিয়া রহিল। উদয়াদিত্য দুই হাতে মুরমার মুখ তুলিয়া ধরিয়া কহিলেন, “স্বরম, সুরমা তুমি কোথায় যাইবে স্বরমা ! আমার আর কে রহিল ?" স্বরমার দুই চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। সে কেবল বিভার মুখের দিকে চাহিল! বিভ। তখন হতচেতন হইয়৷ বোধশূন্য নয়নে স্বরমার দিকে চাহিয়া আছে। যেখানে প্রতি সন্ধ্যায় সুরমা ও উদয়াদিত্য বসিয়া থাকিতেন, সম্মুখে সে বাতায়ন উন্মুক্ত । জাকাশের তারা দেখা যাইতেছে, ধীরে ধীরে বাতাস বহিতেছে, চারিनिक স্তব্ধ। ঘরে প্রদীপ জালাইয়া গেল। রাজবাটিতে পূজার শাক ੇ। বাজিয়া ক্রমে থামিয়া গেল। সুরমা উদয়াদিত্যকে মৃদুস্বরে কহিল, একটা কথা কও, আমি চোখে ভাল দেখিতে পাইতেছি না ।” ক্রমে রাজবাটিতে রাষ্ট্র হইল যে, সুরমা নিজ হস্তে বিষ খাইয়া মরিতেছে। রাজমহিষী ছুটিয়া আসিলেন, সকলে ছুটিয়া আসিল । সুরমার মুখ দেখিয়া মহিষী কাদিয়া উঠিয়া কহিলেন, “স্বরম, মা আমার তুষ্ট এইখানেই থাক, তোকে কোথাও যাইতে হইবে না। তুই আমাদের ভূরের লক্ষ্মী, তোকে কে যাইতে বলে ?” স্বরম শাশুড়ীর পায়ের ধূলা মাথায় তুলিয়া লইল। মহিষী দ্বিগুণ কাদিয়া উঠিয়া কহিলেন, “মা তুষ্ট কি রাগ করিয়া গেলি রে ?” তখন স্বরমার কণ্ঠরোধ হইয়াছে, কী কথা বলিতে গেল, বাহির হইল নাi রাত্রি যখন চারি দণ্ড আছে, তখন চিকিৎসক কহিলেন, “শেষ হইয়া গেছে!” "দাদা, কী হইল গো বলিয়া . বিষ্ণুৰীমার বুকের উপরে পড়িয়া স্বরমাকে জড়াইয়া ধরিল। প্রজাত * গেল, উদয়াদিত্য স্বরমার মাথা কোলে রাখি 'বসিয়া রছিলেন!