প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট గీవె আমি কি ভাই সভা নিতেছিলাম? আমি ঠোটা করিতেছিলাম, এইটে আর বুঝিতে পারিলে না ? ছি প্রিয়তমে !” সীতারামের মাযেব কী রোগ হইল, জানি না, আজ কাল প্রায় মাঝে মাঝে সে জামাই-বাড়ি যাইতে লাগিল ও টাকা বাহির করিয়া দিবার বিষয়ে তাহার স্মরণশক্তি একেবাবে বিলুপ্ত হইয়া গেল ! কাজেই সীতারামকে প্রায় মাঝে মাঝে রুক্মিণীব কাছে অসিতে হইত। আজ কাল দেখা যায় সীতারাম ও রুক্মিণীতে মিলিযা অতি গোপনে কী একটা বিষয় লষ্টয়া পরামর্শ চলিতেছে । অনেকদিন পরামর্শের পর সীতারাম কহিল, “আমার ভাই অত ফন্দি আসে না । এ বিষযে ভাগবতের সাহায্য না লইলে চলিবে না।" সেই দিন সন্ধ্যাবেলায় অত্যন্ত ঝড হইতেছে। রাজবাডির ইতস্তত জুমদাম করিয়া দরজা পডিতেছে। বাতাস এমন বেগে বহিতেছে যে, বাগানের বড় বড় গাছেব শাপ হেলিয়া ভূমি স্পর্শ করিতেছে। বন্যার মুখে ভয় চূর্ণ গ্রামপল্লীর মতে, ঝড়ের মূপে ছিন্নভিন্ন মেঘ ছুটিয়া চলিয়াছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ, ঘন ঘন গজ্জন। উদয়াদিত্য চারিদিকের দ্বার রুদ্ধ করিয়া ছোট একটি মেয়েকে কোলে লইয়া বসিয়া আছেন। ঘরের প্রদীপ নিভাইয়া দিয়াছেন । ঘর অন্ধকার । মেয়েটি কোলের উপর ঘুমাইয়ার পড়িয়াছে। স্বরম। যখন বঁাচিয়াছিল, এই মেয়েটিকে অত্যন্ত ভালবাসিত। স্থরমার মৃত্যুর পর ইহার ম৷ ইহাকে আর রাজবাড়িতে পাঠায় নাই।" অনেক দিনের পর সে আজ একবার রাজবাড়িতে বেডাইতে আসিয়াছিল । সহসা উদয়াদিত্যকে দেখিয়া “কাকা” “কাকা” বলিয়া সে তাহার কোলেন্থ উপরে বাপাইয়া পড়িয়াছিল। উদয়াদিত্য তাহাকে বুকে চাপিয়া ধরিয়া তাহার শয়নগৃহে লইয়া আসিয়াছেন। উদয়াদিত্যের মনের ভর এই যে, “স্বরম। এই ীেটিকে যদি একবার দেখিতে আসে। ইহাকে যে সে বড় ভালখাসিত ! এত স্নেহের ছিল সে কি না