প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট S \©@ পূৰ্ব্বদিক হইতে, কারাগাবের হৃৎ-স্পন্দন ধ্বনির মতো প্রহরীদের পদশক অনবরত কানে আসিতেছে। এক এক প্রহর অতীত হইতে লাগিল, দূর হইতে এক একটা হাক শুন। যাইতেছে । আকাশে একটি মাত্র তারা নাই, যে বঁাশঝাডের দিকে উদয়াদিত্য চাহিয়া আছেন, তাহা জোনাকীতে একেবাবে ছাইযা ফেলিয়াছে। সে বান্ত্রে উদযাদিতা আর শয়ন করিলেন ন, জানালার কাছে বসিয়া প্রহরীদেব অবিবাম পদ শব্দ শুনিতে লাগিলেন। বিভ। আজ সন্ধ্যাবেলায় একবাব অস্তঃপুবে বাগানে গিয়াছে। প্রাসাদে, বোধ কবি অনেক লোক । চারিদিকে দাস দাসী, চাবিদিকেই* পিসি মাসী, কথাষ কথাষ “কী হইযাছে, কী বৃত্তান্ত” জিজ্ঞাসা করে, প্রতি অশ্রুবিন্দুব হিসাব দিতে হয, প্রতি দীর্ঘ নিশ্বাসের বিস্মৃত ভাষ্য ও সমালোচনা বাহির হইতে থাকে। বিভা বুঝি আর পাবে নাই, ছুটিয়া বাগানে আসিয়াছে । সুধা আজ মেঘের মধ্যেই উঠিষাছে, মেঘের মধ্যেই অস্ত গেল। কখন যে দিনেব অবসান হইল, ও সন্ধ্যাব আরম্ভ হইল বুঝা গেল মা। বিকালের দিকে পশ্চিমেব মথে একটুখানি সোনার রেখ ফুঠিয়াছিল, কিন্তু দিন শেষ হইতে ন হইতেই মিলাইযা গেল। আঁধারেব উপর অণধার ঘনাইন্থে লাগিল। দিগন্ত হইতে দিগন্ত আচ্ছন্ন হইষা গেল। ঘন-শ্রেণী ঝাউগাছগুলির মাথার উপর অন্ধকাব এমনি করিয়া জমিয়া আসিল যে, তাহদের পবম্পবের মধ্যে একটা ব্যবধান আর দেখা গেল না, ঠিক মনে হইতে লাগিল যেন সহস্র দীর্ঘ পায়েব উপর ভর দিয়া একটা প্রকাগু বিস্তৃত নিস্তত্ব অন্ধকার দাড়াইয়৷ আছে। রাত হক্টতে লাগিল, রাজবাডির প্রদীপ একে একে নিবিয়া গেল। বিভ। ঝাউগাছের তলায় বসিয়া আছে । বিভা স্বভাবতই ভীরু, কিন্তু আজ তাহার ভয नभैं। কেবল, ষতই অণধার বাড়িতেছে, ততই তাহার মনে হইতেছে যেন পৃথিবীকে কে তাহার কাছ হইতে কাড়িয়া লইতেছে , যেন স্বখ হক্টডে, শাস্তি হইতে জগৎ সংসারের উপকূল হইতে কে আহাকে ঠেলিয়া