প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S 83 বৌ-ঠাকুরাণীর হাট কালামুখ লইয়। এই শানের উপরে ঘষিব, তোর মুখে চুণ কালি মাথাইয়া সহর হইতে বাতির করিয়া দিব, তবে জলগ্রহণ করিব !” রুক্মিণী কিষংক্ষণ অনিমেষ নেত্রে সীতারামের মুখের দিকে চাহিয়৷ শুনিল, ক্রমে তাহার দাতে দাতে লাগিল, ঠোঁটে ঠোট চাপিল, তাহব হাতের মুষ্টি দৃঢ়বন্ধ হইল, তাহার খন ক্লষ্ণ ক্রযুগলের উপর মেঘ ঘনাষ্টয়া আসিল, তাহার বন-কুঞ্চ চক্ষু-তারকায় বিদ্যাং সঞ্চিত হইতে লাগিল,তাহাব সমস্ত শরীর নিম্পন্দ হইয়া গেল , ক্রমে তাহার স্কুল অধরেীষ্ঠ কঁাপিতে লাগিল, ঘন ভ্র তরঙ্গিত হইল, অন্ধকার চক্ষে বিদ্যুৎ খেলাইতে লাগিল, কেশরাশি ফুলিয়া উঠিল, হাত পা থব থর করিয়। কঁাপিতে আরম্ভ করিল। একটা পৈশাচিক অভিশাপ, একট। সৰ্ব্বাঙ্গস্ফীত কম্পমান হিংস সীত|রামের মাথার উপরে যেন পড়ে পড়ে। সেই মুহূৰ্বে সীতরাম কুটার হইতে বহির হইয় গেল। ক্রমে যপন রুক্মিণীর মুষ্টি শিথিল হইয আসিল, দাত খুলিয়া গেল, অপরেীষ্ট পৃথক্ হইল, কুঞ্চিত ভ্র প্রসাবিত হইল, তখন সে বসিয় পডিল, কহিল, “বটে। যুবরাজ তোমারই বটে । যুবরাজের বিপদ হইয়াছে বলিয়। তোমাব গায়ে বড় লাগিয়াছে—যেন যুবরাজ আমার কেক নয়। পোডারমূপে, এটা জানি ন৷ সে যে আমারই যুবরাজ, আমিই তার ভাল করিতে পারি আর আমিই তাহাব মন্দ করিতে পারি। আমার যুবরাজকে তুই কারামুক্ত করিতে চাহিল। দেখিব কেমন তাহ পারিস।” সীতারাম সেই দিনই রায়গড়ে চলিয়া গেল । বিকালবেল বসন্তরায় রায়গড়ের প্রাসাদের বারান্দায় বসিয়৷ রহিয়াছেন সম্মুখে এক প্রশস্ত মাঠ দেখা যাইতেছে। মাঠের গ্রান্তে খালের পরপারে একটি অম্বিনের মধ্যে সূৰ্য্য অস্ত যাইতেছেন। বসন্তরায়ের হাড়ে তাহার চিরাচর সেতারটি আর নাই। বুদ্ধ সেই অস্তমান श्ंौत्र দিৰুে চাহিয়া আপনার মনে গুন গুন করিয়া গান গাহিতেছেন।