প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট )Q● লাগিলেন—“আমার কিসের মুখ আছে ? উদয়—বাছ আমার কিছু জানে না তাহাকে ত মহারাজ—সে যেন রাজার মতোই হয় নাই, কিন্তু তাহাকে ত আমি গর্ভে ধারণ করিয়াছিলাম, সে ত আমার আপনার সন্তান বটে। জানি না, বাছা সেখানে কী করিয়া থাকে, একবার আমাকে দেখিতেও দেয় না !” মহিষী আজ কাল যে যে কথাই পাড়েন, উদয়াদিত্যের কথা তাহার মধ্যে একস্থলে আসিয়া পড়ে। ঐ কটাই র্তাহার প্রাণের মধ্যে যেন দিনরাত জাগিয়া আছে ! চিঠি পড়িয়া বসন্তরায় একেবারে অবাক হইয়া গেলেন—চুপ করিয়া বসিয়া মাথায় হাত বুলাইতে লাগিলেন । কিয়ৎক্ষণ পরে বসন্তরায় মহিষীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “চিঠি ত কাহাকেও দেখাও নি মা ?” #ự মহিষী কহিলেন, “মহারাজ এ চিঠির কথা শুনিলে কি আর রক্ষ। রাখিবেন, বিভাও কি তাহা হইলে আর বঁচিবে ! বসন্তরায় কহিলেন, “ভাল করিয়াছ। এ চিঠি আর কাহাকেও দেখাইও না বউ মা।. তুমি বিভাকে শীঘ্র তাহার শ্বশুর বাড়ি পাঠাইয়া দাও। মান অপমানুের কথা ভাবিও না !” মহিষী কহিলেন—“আমিও তাহাই মনে করিয়াছি। মান লইয়। আমার কাজ নাই, আমার বিভা স্বর্থী হইলেই হইল ! কেবল ভয় হয় পাছে বিভাকে তাহারা অযত্ন করে।” বসন্তরায় কহিঙ্গেম,—“বিভাকে অযত্ন করিবে ! বিভা কি অযত্নের ধন ! বিভা যেখানে যাইবে সেই খানেই আদর পাইবে। অমন লক্ষ্মী অমন সোনার প্রতিমা আর কোথায় আছে! রামচন্দ্র কেবল তোমাদের উপর রাগ করিয়াই এই চিঠি লিখিয়াছে, আবার পাঠাইয়া रिङ्ग३ 壟 রাগ পড়িয়া যাইবে।” বসন্তরায় তাহার সরল হৃদয়ে সরল বৃদ্ধিতেই বুঝিলেন। মহিষীও তাহাই বুঝিলেন!