প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট । ›6 ግ গোলমাল চলিতে লাগিল—তাহার মন অত্যন্ত অধীর হইয়া উঠিল। সহসা দ্রুতবেগে তাহার কারাগারের দ্বার খুলিয়া গেল। কে একজন তাহার অন্ধকার গৃহে প্রবেশ করিল—তিনি চমকিয়া উঠিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“কে ও ?” সে উত্তর করিল, “আমি সীতারাম, আপনি বাহির হইয়া আস্থন!” উদয়াদিত্য কহিলেন—“কেন ?” o সীতারাম কহিল—“যুবরাজ কারাগৃহে আগুন লাগিয়াছে, শীঘ্র বাহির হইয়া আস্থন !” বলিয়া তাহাকে ধরিয়া প্রায় তাহাকে বহন করিয়া কারাগারের বাহিরে লইয়া গেল ! অনেক দিনের পর উদয়াদিতা আজ মুক্ত স্থানে আসিলেন—মাথার উপরে সহসা অনেকটা আকাশ দেখিতে পাইলেন, বাতাস যেন তাহার বিস্তৃত বক্ষ প্রসারিত করিয়া তাহাকে আলিঙ্গন করিতে লাগিল ! চোখের বাধা চারিদিক হইতে খুলিয়া গেল। সেই অন্ধকার রাত্রে, আকাশের অসংখ্য তারকার দৃষ্টির নিম্নে, বিস্তৃত মাঠের মধ্যে কোমল তৃণজালের উপর দাড়াইয়া সহসা তাহার মনের মধ্যে এক অপরিসীম অনিৰ্ব্বচনীয় আনন্দের উদয় হইল। সেই আনন্দে কিয়ৎক্ষণ নিস্তব্ধ থাকিয় তাহার পর স্ট্রীতারামকে জিজ্ঞাসা করিলেন—“কী করিব,কোথায় যাইব ?” অনেক দিন সঙ্কীর্ণ স্থানে বদ্ধ ছিলেন, চলেন ফেরেন নাই— আজ এই বিস্তৃত মাঠের মধ্যে আসিয়া অসহায় ভাবে সীতারামকে জিজ্ঞাসা করিলেন “কী করিব ? কোথায় যাইব ?” সীতারাম কহিল— “আস্থন আমার সঙ্গে আস্থন!” এদিকে আগুন খুব জলিতেছে। বৈকালে কতকগুলি প্রজা প্রধান কৰ্ম্মচারীদের নিকট কী-একটা নিবেদন করিবার জন্য আসিয়াছিল । তাহারা প্রাসাদের প্রাঙ্গণে একত্র বসিয়াছিল—তাহারাই প্রথমে আগুনের গোল তোলে। প্রহরীদের বাসের জন্য কারাগারের কাছে একটি দীর্ঘ