প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ᎼᏬ☾ প্রবৃত্ত হইল । ঘোরতর বিবাদ বাধিয়া উঠিল, পরস্পর পরস্পরকে গালাগালি দিতে লাগিল, এমন কি, মারামারি হইবার উপক্রম হইল । সীতারাম ভাবিল, গৃহদাহে যুবরাজের মৃত্যু হইয়াছে, এই সংবাদ রাষ্ট্র করিয়। আপাতত কিছু দিন নিশ্চিন্ত থাকিতে পারিব । যখন সে দেখিল,ঘরে বেশ করিয়া আগুন লাগিয়াছে,তখন সে মাথায় চাদর বাধিয়া আনন্দ মনে তাহার কুটারাভিমুখে চলিল ; প্রাসাদ হইতে অনেক দূরে আসিল । তখন রাত্রি অনেক, পথে লোক নাই, চারিদিকে স্তব্ধ—বাশগাছের পাতা ঝর ঝর করিয়া মাঝে মাঝে দক্ষিণ বাতাস বহিতেছে — সীতারামের সৌর্থীন প্রাণ উল্লাসিত হইয়। উঠিয়াছে, সে একটি রস-গর্ভ গান ধরিয়াছে। সেই জনশূন্ত স্তন্ধ পথ দিয়া একাকী পান্থ মনের উল্লাসে গান গাড়িতে গাহিতে চলিল। কিছু দূর গিয় তাহার মনের মধ্যে এক ভবন। উপস্থিত হইল । সে ভাবিল, যশোহর হইতে তো সপরিবার পালাইতেই হইবে, আমনি বিনা মেহনতে কিঞ্চিৎ টাকার সংস্থান করিয়া লওয়া যাক না। মঙ্গল পোড়ামুৰ্গীত মরিয়াছে—বালাই গিয়াছে—একবার তাহার বাড়ি হইযা যাওয়া যাক—বেটির টাকা আছে ঢের—তাহার ত্রিসংসারে কেহই নাই-সে টাকা আমি নালই তো আর একজন লইবে, —তায় কাজ কী একবার চেষ্টা করিয়া দেখা যাক ! এইরূপ সাত পাচ ভাবিয়া সীতারাম রুক্মিণীর বাড়ির মুখে চলিল—প্রফুল্ল মনে আবার গান ধরিল । যাইতে যাইতে পথে একজন অভিসারিণীকে দেখিতে পাইল । সীতারামের নজরে এ সকল কিছুই এড়াইতে পায় না। দুইটা রসিকত করিবার জন্য তাহার মনে অনিবাৰ্য্য আবেগ উপস্থিত হইল—কিন্তু সময় নাই দেখিয়া সে আবেগ দমন করিয়া হন হন করিয়া চলিল । সীতারাম রুক্মিণীর কুটীরের নিকটে গিয়া দেখিল, দ্বার খোলাই আছে । হৃষ্টচিত্তে কুটীরের মধ্যে প্রবেশ করিয়া একবার চারিদিকে নিরীক্ষণ করিল। ঘোরতর অন্ধকার, কিছুই দেখা যাইতেছে না। এক