প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:বৌ-ঠাকুরাণীর হাট-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ՖԳՖ সেনাপতিকে ডাকিয় তাহার প্রতি গোপনে কী একটা আদেশ করিলেন । সে সেলাম করিয়া চলিয়া গেল । দ্বাৱিংশ পরিচ্ছেদ প্রতাপাদিত্যুের পূৰ্ব্বেই মহিষী ও বিভা উদয়াদিত্যের পলায়ন-সংবাদ অবগত হইয়াছিলেন। উভয়েই ভয়ে অভিভূত হইয়া ভাবিতেছিলেন যে, মহারাজ যখন জানিতে পারিবেন, তখন না জানি কী করিবেন! প্রতিদিন মহারাজ যখন এক একটি করিয়া সংবাদ পাইতেছিলেন, আশঙ্কায় ভয়ের প্রাণ ততই আকুল হইয়া উঠিতেছিল। এইরূপে সপ্তাহ গেল, অবশেষে মহারাজ বিশ্বাসবোগা যথার্থ সংবাদ পাইলেন । কিন্তু তিনি কিছুই করিলেন না। ক্রোধের আভাস মাত্র প্রকাশ করিলেন না । মহিষী আর সংশয়ে থাকিতে না পারিয়া একবার প্রতাপাদিত্যের কাছে গেলেন । কিন্তু অনেকক্ষণ উদয়াদিত্য সম্বন্ধে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করিতে সাহস করিলেন না । মহারাজও সে বিষয়ে কোনো কথা উত্থাপিত করিলেন না। অবশেষে আর থাকিতে না পারিয়া মহিষী বলিয়া উঠিলেন— “মহারাজ, আমার এক ভিক্ষ রাখো, এবার উদয়কে মাপ করে ! বাছাকে আরো যদি কষ্ট দাও তবে আমি বিষ খাইয়া মরিব ।” প্রতাপাদিত্য ঈষৎ বিরক্তিভাবে কহিলেন,—“আগে হইতে যে তুমি কাদিতে বসিলে ! আমি তো কিছুই করি নাই!” পাছে প্রতাপাদিত্য আবার সহসা বাকিয়া দাড়ান, এই নিমিত্ত মহিষী ও-কথ। আর দ্বিতীয় বার উত্থাপিত করিতে সাহস করিলেন না । ভীত মনে ধীরে ধীরে চলিয়া আসিলেন। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন গেল, মহারাজের কোনো প্রকার ভাবান্তর লক্ষিত হইল না। তাহাই দেখিয়া মহিষী ও বিভা আশ্বস্ত হইলেন । মনে করিলেন, উদয়াদিত্য স্থানান্তরে যাওয়ায় মহারাজ মনে মনে বুঝি সন্তুষ্ট হইয়াছেন।